‘খেলা হবে’ গানের স্রষ্টা দেবাংশুরও ‘খেলা শেষ’
বাংলাদেশ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শক্ত জায়গা করে নেওয়া এক রাজনৈতিক স্লোগান ‘খেলা হবে’। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এই ‘খেলা হবে’ স্লোগানই হয়ে উঠেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান হাতিয়ার।
বিজেপিকে ঠেকাতে ‘খেলা হবে’ গানও বাঁধা হয়েছিল। আর তাতে শেষপর্যন্ত ধরাশায়ী হতে হয় কোমর বেঁধে মাঠে নামা বিজেপিকে।
তবে পাঁচ বছর বাদে উল্টে গেছে পাশার দান। যে স্লোগান এবং গান কাঁপন ধরিয়েছিল বিরোধী শিবিরে, সেটিই এখন ব্যাঙ্গ হয়ে তীরবিদ্ধ করছে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসকে। ভোটে বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিজেপির নেতা-সমর্থকেরা উল্টো মমতাকে উপহাস করে বলছেন ‘খেলা শেষ’। তৃণমূলের দুর্গ তছনছ শুধু নয়, পাঁচ বছর আগে ‘খেলা হবে’ গানের রচয়িতা দেবাংশু ভট্টাচার্যের পরাজয়ও মোটামুটি নিশ্চিত।
চুঁচুড়ায় তার আসনে জয়ের কাছাকাছি রয়েছেন বিজেপির প্রার্থী সুবীর নাগ।
‘খেলা হবে’ স্লোগানের আদি উৎপত্তি বাংলাদেশে। আওয়ামী লীগ নেতা ও নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান প্রথম ২০১৩ সালে এই স্লোগানটি ব্যবহার করেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জে এক সমাবেশে বিএনপি ও জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কারে খেলা শেখান? আমরা তো ছোটবেলার খেলোয়াড়।
খেলা হবে!’
এরপরেই আওয়ামী লীগ নেতাদের মুখে ছড়িয়ে পড়ে এই স্লোগান। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মুখে একাধিকবার শোনা গেছে ‘খেলা হবে’।
সীমান্ত পেরিয়ে এই স্লোগান পৌঁছে যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির উদ্দেশে বিভিন্ন সময় এই স্লোগান দিয়ে আলোচিত হন। এরপর ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অনানুষ্ঠানিক নির্বাচনী সংগীত হিসেবে বেছে নেয় ‘বন্ধু এবার খেলা হবে…’।
গানটির লেখক দেবাংশু ভট্টাচার্য।
তরুণ দেবাংশু এই গান লিখে রীতিমতো তারকা বনে যান। এর আগে ছিলেন তৃণমূলের একজন সাধারণ সমর্থক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করতেন। তবে ‘খেলা হবে’ গানেই খুলে যায় কপাল।
২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের সমর্থনে তাঁর লেখা এই গান রাজ্য ও রাজ্যনীতিতে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দায়িত্ব পান তৃণমূলের আইটি সেলের। এই তরুণ তুর্কিকে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তমলুক থেকে প্রার্থীও করা হয়। তবে জিততে পারেননি।
সবশেষ এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে চূঁচূড়া থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেয় তৃণমূল। এজন্য দলটি চুঁচুড়ার বর্তমান বিধায়ক অসিত মজুমদারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছিল এবার দেখাবেন ‘আসল খেলা’। তবে গেরুয়া ঝড় পশ্চিমবঙ্গে যে তাণ্ডব চালিয়েছে তাতে উড়ে যেতে বসেছেন ‘খেলা হবে’ গানের স্রষ্টাও। শেষ খবর পর্যন্ত তাকে পেছনে ফেলে ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বিজেপির সুবীর নাগ। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি দেবাংশু ভট্টাচার্যের খেলাও এবার শেষের পথে।
প্রধান উপদেষ্টা :সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ মনিরুজ্জামান, উপদেষ্টা :এস এম আজিজুর রহমান স্বপন, প্রধান প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ শাহীন, সহযোগি সম্পাদক : মোসা: শেখ মাজেদা, নির্বাহী সম্পাদক : ফাতেমা বেগম, সম্পাদক শেখ জান্নাতুল ফেরদাউস,সম্পাদক : শেখ শারফিয়া মরিয়ম,সম্পাদক এ্যাড:ফারুক হোসেন,প্রকাশক ও প্রধান বার্তা সম্পাদক :জাহারুল ইসলাম জীবন, বার্তা সম্পাদক - আশিষ সাহা, বার্তা সম্পাদক অমিত তালুকদার,বার্তা সম্পাদক গাজী মনিরুজ্জামান মনি,প্রবাসী সম্পাদক :মোঃ সেলিম রানা,হেড অফ মার্কেটিং মোঃ মামুন মোল্লা,অফিস সম্পাদক মোঃ রোমেল হোসেন।
অফিস ঠিকানা:কর্পোরেট অফিস :৫৫/বি নোয়াখালী টাওয়ার লিফটের ১৬ রুম নং ১৬/২ ঢাকা-১০০০ আঞ্চলিক অফিস :ডাকবাংলা মোড় আকাঙ্ক্ষা টাওয়ার লিফটের ৫ রুম নং ৫/বি২ খুলনা মোবাইল নাম্বার: অফিস 01911223672, প্রধান প্রকাশক ও সম্পাদক 01811441416, বার্তা সম্পাদক-01974580945
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক ঢাকার সময় । Website: www.thedhakersomoy.com