ঝালকাঠি পৌরসভায় প্রায় ৩৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প
নির্মাণ হবে আধুনিক বাস টার্মিনাল, মাল্টিপারপাস মার্কেট ও সিটি পার্ক
শংকর দাস পবন, স্টাফ রিপোর্টার
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন কোস্টাল টাউন ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট প্রজেক্ট (সিটিসিআরপি)-এর আওতায় ঝালকাঠি পৌরসভায় প্রায় ৩৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল, মাল্টিপারপাস মার্কেট এবং সিটি পার্ক নির্মাণ ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকের মতামত গ্রহণে বুধবার (২২ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে একটি নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে প্রকল্প পরিচালক সরদার মো. সাজ্জাদ কবির, উপ-প্রকল্প পরিচালক জুবাইদা আক্তার, মো. শাহজাহান ও উজ্জ্বল ত্রিপুরা জানান, ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এ পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পের কার্যক্রম ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল, ৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পৌর সিটি পার্কের আধুনিকায়ন এবং পুরোনো টাউন হল ভবন অপসারণ করে সেখানে ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি মাল্টিপারপাস মার্কেট নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এরপর পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, বাস টার্মিনাল, মাল্টিপারপাস মার্কেট ও সিটি পার্ক নির্মাণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের মতামত সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় জরিপ ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রকল্পের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনগণের চাহিদা ও বাস্তব প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ঝালকাঠি পৌরসভার প্রশাসক জুলিয়া সুকায়না-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক সরদার মো. সাজ্জাদ কবির।
এ সময় সিটিসিআরপি প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালকবৃন্দ, আর্কিটেক্ট টিম, ডিজাইন ইউনিটের প্রতিনিধিসহ ঝালকাঠি পৌরসভা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে গঠনমূলক মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন। এসব মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্পের পরিকল্পনা আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।