ডবল ইঞ্জিনের ধাক্কায় কুপোকাত তৃণমূল : ২০৮ টি আসন জিতে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি
লুতুব আলি
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নবান্নে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৮টি আসন জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে গেরুয়া শিবির। ম্যাজিক ফিগার ১৪৮-কে বহু পিছনে ফেলে বাংলায় প্রথমবার ইতিহাস গড়ল বিজেপি। অন্যদিকে ২১৫ আসন থেকে মুখ থুবড়ে পড়ে মাত্র ৭৯টি আসনে আটকে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সবচেয়ে বড় অঘটন রাজনীতির তীর্থস্থান ভবানীপুরে। নিজের গড়ে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দারুণভাবে পরাজিত হয়েছেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তিনি ১৫,১১৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হেরে গিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় পতনের সাক্ষী হলেন। নন্দীগ্রামেও শুভেন্দু ৩,১০০-র বেশি ভোটে জিতে ২০২১-এর স্মৃতি ফিরিয়ে এনে বুঝিয়ে দিলেন জনতার রায় এবার কোনদিকে।
বাংলার এই গেরুয়া ঝড়ের ঢেউ আছড়ে পড়েছে দিল্লিতেও। সোমবার সন্ধ্যায় বিজেপির কেন্দ্রীয় দপ্তর কার্যত উৎসবের চেহারা নেয়। হাজারো কর্মীর সামনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এটা শুধু বিজেপির জয় না, এটা বাংলার মা-বোনেদের সম্মানের জয়। এটা সিন্ডিকেট-তোলাবাজির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জয়। বাংলার মানুষ উন্নয়ন চায়, শান্তি চায়, দুর্নীতিমুক্ত শাসন চায়। মোদী আরও বলেন, বাংলার মানুষ ডবল ইঞ্জিন সরকারকে বেছে নিয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকলে উন্নয়নের গতি দ্বিগুণ হবে। পূর্ব ভারতের দরজা খুলে গেল, এবার বাংলা নতুন যুগে পা রাখবে। তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এই জয় মাথা ঠান্ডা রেখে মানুষের সেবা করার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।
কিন্তু কেন এমন ভরাডুবি তৃণমূলের? রাজনৈতিক মহল বলছে, এসএসসি ও প্রাথমিক টেট-সহ নিয়োগ দুর্নীতিতে যুব সমাজের ক্ষোভ এবার ব্যালটে ফেটে পড়েছে। শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগে তৃণমূলের সংগঠনেই ফাটল ধরেছিল। সন্দেশখালি কাণ্ডে মহিলাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ ওঠায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারও শেষরক্ষা করতে পারেনি। আইএসএফ ও কংগ্রেস জোটের কারণে সংখ্যালঘু ভোটে বড়সড় ভাঙন ধরেছে। তার উপর পোস্টাল ব্যালটের ফল বলছে, ডিএ-বঞ্চনার জেরে অধিকাংশ সরকারি কর্মচারী এবার শাসকদলের থেকে মুখ ফিরিয়েছেন। সব মিলিয়ে গ্রাম থেকে শহর, মতুয়া থেকে জঙ্গলমহল— সর্বত্রই মোদী-শাহ জুটির ডবল ইঞ্জিন স্লোগান মানুষের মনে ধরে গেছে। দলনেত্রীর নিজের কেন্দ্রে এই দারুণ পরাজয় প্রমাণ করে দিল, মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে কতটা মরিয়া ছিল।
জয়ের সরকারি ঘোষণার পর রাজ্য বিজেপি দপ্তরে উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভেঙেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অহংকারের পতন। নন্দীগ্রামের মানুষ ২০২১-এ পথ দেখিয়েছিল, এবার গোটা বাংলা দেখাল যে অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়াবে না। ভবানীপুরের মানুষ যোগ্য জবাব দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে গণতন্ত্রে কেউই অপরাজেয় নয়। রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, বাংলার মানুষ কাটমানি, তোলাবাজি ও ভাইপো-রাজ থেকে মুক্তি চেয়েছিল। এই রায় তারই প্রতিফলন। এবার কেন্দ্রের সহায়তায় বাংলায় শিল্প আসবে, ছেলেমেয়েরা চাকরি পাবে।
অন্যদিকে কালীঘাটের বাড়িতে চরম নিস্তব্ধতা। নিজের গড়ে এই দারুণ পরাজয়ের পর দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, মানুষের রায় মাথা পেতে নিচ্ছি। ইভিএম ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন থাকলেও গণতন্ত্রে জনতাই শেষ কথা। এই ফল আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত।
গণনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একাধিক হেভিওয়েট কেন্দ্রে কাঁটা-এ-কাঁটা লড়াই চলেছে। বেশ কয়েকটি মন্ত্রীর আসনেও গেরুয়া হাওয়া জোরালো ছিল। শেষমেশ ছবি স্পষ্ট— বিজেপি ২০৮ আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। রাজ্যে এবার রেকর্ড ৯২.৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ। মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ৯৩.২৪ শতাংশ। ২৯৩ আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল, যা শুধু রাজ্যবাসী নয়, গোটা দেশ তথা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করল।
লুতুব আলি
প্রধান উপদেষ্টা :সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ মনিরুজ্জামান, উপদেষ্টা :এস এম আজিজুর রহমান স্বপন, প্রধান প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ শাহীন, সহযোগি সম্পাদক : মোসা: শেখ মাজেদা, নির্বাহী সম্পাদক : ফাতেমা বেগম, সম্পাদক শেখ জান্নাতুল ফেরদাউস,সম্পাদক : শেখ শারফিয়া মরিয়ম,সম্পাদক এ্যাড:ফারুক হোসেন,প্রকাশক ও প্রধান বার্তা সম্পাদক :জাহারুল ইসলাম জীবন, বার্তা সম্পাদক - আশিষ সাহা, বার্তা সম্পাদক অমিত তালুকদার,বার্তা সম্পাদক গাজী মনিরুজ্জামান মনি,প্রবাসী সম্পাদক :মোঃ সেলিম রানা,হেড অফ মার্কেটিং মোঃ মামুন মোল্লা,অফিস সম্পাদক মোঃ রোমেল হোসেন।
অফিস ঠিকানা:কর্পোরেট অফিস :৫৫/বি নোয়াখালী টাওয়ার লিফটের ১৬ রুম নং ১৬/২ ঢাকা-১০০০ আঞ্চলিক অফিস :ডাকবাংলা মোড় আকাঙ্ক্ষা টাওয়ার লিফটের ৫ রুম নং ৫/বি২ খুলনা মোবাইল নাম্বার: অফিস 01911223672, প্রধান প্রকাশক ও সম্পাদক 01811441416, বার্তা সম্পাদক-01974580945
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক ঢাকার সময় । Website: www.thedhakersomoy.com