প্রকল্প পরিচালক ডা. আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে টেন্ডার কারসাজি, বদলি বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ।
ক্রাইম রিপোর্টার: আওয়ামী আমলের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে ‘বিশেষ শর্ত’, ৩ কোটি টাকার ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগ; মন্ত্রণালয়ের শোকজেও স্বস্তিতে অভিযুক্ত?
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে টেন্ডার অনিয়ম, বদলি বাণিজ্য ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ থামেনি। বরং ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে পুরোনো সিন্ডিকেট বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিমকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের তৎকালীন এপিএস হিল্টন কুমার সাহার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগসাজশে প্রকল্প পরিচালক ডা. আব্দুর রহিম অধিদপ্তরের বিভিন্ন দরপত্রে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে সাবেক মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বড় বড় দরপত্র বাগিয়ে নিতেন হিল্টন কুমার সাহা। সরকার পরিবর্তনের পরও সেই প্রভাববলয় পুরোপুরি অটুট রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন সরকারি খামারের জন্য গবাদিপশুর খাদ্য ক্রয়ের দরপত্রে এমন কিছু শর্ত সংযোজন করা হয়েছে, যার কোনো যৌক্তিক বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরবরাহকারীর পণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব শর্ত তৈরি করা হয়েছে, যাতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে পড়ে এবং বিশেষ গোষ্ঠী সুবিধা পায়। এর ফলে আওয়ামী আমলের প্রভাবশালী ঠিকাদার হিল্টন কুমার সাহার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিম সম্প্রতি রাজধানীর মনিপুরীপাড়ার ৮৩/৪ নম্বর আনোয়ার ম্যানসনের তৃতীয় তলায় প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট ঠিকাদার হিল্টন কুমার সাহার কাছ থেকে ‘উপহার’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গত ৭ জুন (স্মারক নং- ৩৩.০০.০০০০.১৪০.১৪.০০০৪.২৪-২৬) ডা. আব্দুর রহিমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার দাবি, এই শোকজে অভিযুক্ত কর্মকর্তার তেমন কোনো ক্ষতি হবে না; বরং এটি ‘লোক দেখানো’ ব্যবস্থা বলেই মনে করছেন তারা।
সূত্রমতে, হিল্টন কুমার সাহা তার নিজস্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এইচ এন এন্টারপ্রাইজ ও লুৎফা এন্ড সন্স নামের আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন মনগড়া শর্তের মাধ্যমে দরপত্রে সক্রিয় রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্দার আড়াল থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন প্রকল্প পরিচালক ডা. আব্দুর রহিম ও হিল্টন কুমার সাহা। ফলে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার পরিবেশ ভেঙে পড়ে একধরনের ‘নিয়ন্ত্রিত দরপত্র ব্যবস্থা’ চালু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুধু টেন্ডার কারসাজিই নয়, ডা. আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে বদলি বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলিকে কেন্দ্র করে নিয়মিত অর্থ লেনদেন হয় এবং এই প্রক্রিয়ায় প্রকল্প পরিচালক নিজেই প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। একই সঙ্গে অধিদপ্তরের পরিচালক, প্রকল্প পরিচালকসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ বা চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘খালকাটা কর্মসূচি’ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা চাঁদা তোলা হয়েছে। এ কাজে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ডা. আব্দুর রহিমকে সহযোগিতা করেছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। এতে অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তারা কার্যত তার প্রভাববলয়ের মধ্যে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিতরণ করা হাঁস, মুরগি, ছাগল ও ভেড়ার প্রকৃত অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কোথাও বিতরণের পর প্রাণীগুলো মারা গেছে, আবার কোথাও কেবল ছবি তুলে দেখানো হলেও বাস্তবে উপকারভোগীদের কাছে প্রাণী হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এই বহুমাত্রিক অনিয়ম, টেন্ডার কারসাজি, বদলি বাণিজ্য ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তারা বলছেন, বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক শোকজে সীমাবদ্ধ না রেখে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
প্রধান উপদেষ্টা :সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ মনিরুজ্জামান, উপদেষ্টা :এস এম আজিজুর রহমান স্বপন, প্রধান প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ শাহীন, সহযোগি সম্পাদক : মোসা: শেখ মাজেদা, নির্বাহী সম্পাদক : ফাতেমা বেগম, সম্পাদক শেখ জান্নাতুল ফেরদাউস,সম্পাদক : শেখ শারফিয়া মরিয়ম,সম্পাদক এ্যাড:ফারুক হোসেন,প্রকাশক ও প্রধান বার্তা সম্পাদক :জাহারুল ইসলাম জীবন, বার্তা সম্পাদক - আশিষ সাহা, বার্তা সম্পাদক অমিত তালুকদার,বার্তা সম্পাদক গাজী মনিরুজ্জামান মনি,প্রবাসী সম্পাদক :মোঃ সেলিম রানা,হেড অফ মার্কেটিং মোঃ মামুন মোল্লা,অফিস সম্পাদক মোঃ রোমেল হোসেন।
অফিস ঠিকানা:কর্পোরেট অফিস :৫৫/বি নোয়াখালী টাওয়ার লিফটের ১৬ রুম নং ১৬/২ ঢাকা-১০০০ আঞ্চলিক অফিস :ডাকবাংলা মোড় আকাঙ্ক্ষা টাওয়ার লিফটের ৫ রুম নং ৫/বি২ খুলনা মোবাইল নাম্বার: অফিস 01911223672, প্রধান প্রকাশক ও সম্পাদক 01811441416, বার্তা সম্পাদক-01974580945
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক ঢাকার সময় । Website: www.thedhakersomoy.com