রাস্তা নয়, যেন মরণফাঁদ: কিশোরগঞ্জের মনিপুর ঘাট ও যশোদল স্কুল রোডে জনদুর্ভোগ চরমে
মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল
ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
রাস্তা যেন আর রাস্তা নেই, পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও বেরিয়ে পড়েছে রড, আবার কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ ও যানবাহন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
কিশোরগঞ্জ শহরের মনিপুর ঘাট ব্রিজ রোড বর্তমানে এমনই এক ভয়াবহ সড়কে পরিণত হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাতায়াতের অন্যতম পথ এটি। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী, স্বজন, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী এই সড়ক ব্যবহার করেন।
বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী কিংবা প্রসূতি মায়েদের এই সড়ক দিয়ে হাসপাতালে নিতে গিয়ে স্বজনদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। সড়কের ভাঙাচোরা অংশে অ্যাম্বুলেন্সসহ যানবাহন চলাচলের সময় রোগীর শারীরিক কষ্ট আরও বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিপজ্জনকভাবে রড বেরিয়ে থাকলেও এখনো কার্যকর সংস্কার বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শুধু মনিপুর ঘাট নয়, কিশোরগঞ্জ-যশোদল সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্কুল রোডের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শত শত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই পথে চলাচল করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন, পৌরকর দেওয়ার পরও কেন পৌর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকবে? নাগরিকরা নিয়মিত কর ও বিভিন্ন ফি প্রদান করবেন, অথচ বিনিময়ে নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য সড়ক পাবেন না, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আইন কী বলছে?
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৫০ অনুযায়ী পৌরসভার মূল দায়িত্বের মধ্যে নাগরিকদের নাগরিক সুবিধা প্রদান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নাগরিক নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই ধারায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রাস্তা ও ফুটপাত নির্মাণের দায়িত্বও পৌরসভার কার্যাবলির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া আইনের ধারা ৯৭-এ রাস্তাঘাটসহ পৌর অবকাঠামোসংক্রান্ত প্রকল্প নাগরিকদের স্বার্থে বাস্তবায়নের সুযোগ ও দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, জনসাধারণের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলে বিষয়টি শুধু অব্যবস্থাপনার প্রশ্ন নয়, এটি নাগরিক সেবা ও জননিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নয়, দুর্ঘটনার আগেই ব্যবস্থা চাই
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করলেও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেই। কোথাও রড বেরিয়ে আছে, কোথাও বড় গর্ত, আবার কোথাও ভাঙা অংশের কারণে যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, কেউ গুরুতর আহত বা প্রাণ হারানোর পরই কি কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে?
জনগণের প্রত্যাশা দুর্ঘটনার পর তদন্ত নয়, দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করা।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, পৌরবাসীর কাছ থেকে কর আদায় করা হলে সেই অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের নিরাপদ ও কার্যকর পৌরসেবা নিশ্চিত করাও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। রাস্তার বেহাল দশার বিষয়ে শুধু আশ্বাস বা দায়সারা বক্তব্য নয়, প্রয়োজন সময়সীমা নির্ধারণ করে দৃশ্যমান সংস্কারকাজ।
দ্রুত সংস্কারের দাবি
এলাকাবাসীর দাবি, মনিপুর ঘাট ব্রিজ রোড এবং যশোদল সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্কুল রোড দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করতে হবে। এরপর জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার, বেরিয়ে থাকা রড অপসারণ, গর্ত মেরামত এবং প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, কবে নাগাদ এসব রাস্তা সংস্কার হবে? কতদিন আর পৌরবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করবে?
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের এখন একটাই দাবি—দায়সারা আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চাই।
কারণ রাস্তা কোনো বিলাসিতা নয়। এটি মানুষের চলাচল, চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি মৌলিক নাগরিক অবকাঠামো। তাই মনিপুর ঘাট ও যশোদল স্কুল রোডকে আর অবহেলায় ফেলে না রেখে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
প্রধান উপদেষ্টা :সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ মনিরুজ্জামান, উপদেষ্টা :এস এম আজিজুর রহমান স্বপন, প্রধান প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ শাহীন, সহযোগি সম্পাদক : মোসা: শেখ মাজেদা, নির্বাহী সম্পাদক : ফাতেমা বেগম, সম্পাদক শেখ জান্নাতুল ফেরদাউস,সম্পাদক : শেখ শারফিয়া মরিয়ম,সম্পাদক এ্যাড:ফারুক হোসেন,প্রকাশক ও প্রধান বার্তা সম্পাদক :জাহারুল ইসলাম জীবন, বার্তা সম্পাদক - আশিষ সাহা, বার্তা সম্পাদক অমিত তালুকদার,বার্তা সম্পাদক গাজী মনিরুজ্জামান মনি,প্রবাসী সম্পাদক :মোঃ সেলিম রানা,হেড অফ মার্কেটিং মোঃ মামুন মোল্লা,অফিস সম্পাদক মোঃ রোমেল হোসেন।
অফিস ঠিকানা:কর্পোরেট অফিস :৫৫/বি নোয়াখালী টাওয়ার লিফটের ১৬ রুম নং ১৬/২ ঢাকা-১০০০ আঞ্চলিক অফিস :ডাকবাংলা মোড় আকাঙ্ক্ষা টাওয়ার লিফটের ৫ রুম নং ৫/বি২ খুলনা মোবাইল নাম্বার: অফিস 01911223672, প্রধান প্রকাশক ও সম্পাদক 01811441416, বার্তা সম্পাদক-01974580945
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক ঢাকার সময় । Website: www.thedhakersomoy.com