রৌমারীতে বেপরোয়া ট্রাক্টরের থাবা! গুঁড়িয়ে গেল অটোরিকশা, মা-সন্তানসহ নিহত ৫
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আরও এক বিকেলে নেমে এলো এক বুক হাহাকার ও শোকের কালো ছায়া। শনিবার দুপুরে সায়েদাবাদ বাজারসংলগ্ন এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় সজোরে ধাক্কা দিল এক মালবোঝাই ট্রাক্টর। মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল একটি পরিবারের হাসি-খুলুনি, থমকে গেল পাঁচটি তাজা প্রাণের হৃদস্পন্দন। চতলাকান্দা গ্রামের মো. শহিদুল প্রভাষকের স্ত্রী লিপি খাতুন, তাঁর ১২ বছরের কোমলমতি সন্তান রিশাদ এবং ৭ বছরের ছোট্ট তুবা একইসাথে লাশ হয়ে ফিরেছেন। সাথে প্রাণ হারিয়েছেন অটোরিকশাচালক ও আরেক নারী যাত্রী। ১৭ বছরের কিশোরী বৃষ্টি লড়ছেন জীবনের সাথে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কোনো দৈবদুর্বিপাক নয়, এটি আমাদের সড়ক ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা ও আইন অমান্য করার নগ্ন রূপ। একটি দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশাকে মালবোঝাই ট্রাক্টর যেভাবে গুঁড়িয়ে দিল, তা স্পষ্ট প্রমাণ করে চালকের বেপরোয়া গতি ও অসচেতনতা। গ্রামীণ ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে কৃষি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর বা ট্রলি যেভাবে দ্রুতগতিতে মালপত্র বহন করে চলাচল করে, তা দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব যানবাহনের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা দক্ষ চালক থাকে না। তবুও বছরের পর বছর ধরে এসব যান মহাসড়কে অবাধে রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। "সড়ক দুর্ঘটনা এখন আর নিছক 'দুর্ঘটনা' নেই, তা যেন এক নীরব মহামারীতে রূপ নিয়েছে। ঘর থেকে বের হলে স্বজনরা সুস্থদেহে ফিরে আসবেন কি না, সেই নিশ্চয়তা আজ আর নেই।" প্রতিটি মৃত্যুর পর তদন্ত কমিটি গঠন হয়, পুলিশ লাশ হেফাজতে নেয়, আইনগত ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই সবকিছু ঢাকা পড়ে যায় স্মৃতির অতলে। আর যাদের স্বজন হারায়, তাদের বুকের ভেতর জ্বলে ওঠে তুষের আগুন—যে আগুন নেভানোর শক্তি কোনো ক্ষতিপূরণ বা আশ্বাসের নেই। শহিদুল প্রভাষক আজ এক নিমেষে হারিয়ে ফেললেন তাঁর পুরো পৃথিবী—স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। এই অপূরণীয় ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে? আমরা আর কত লাশ গুনব? রৌমারীর এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত। জরুরি পদক্ষেপ দাবি: অবৈধ যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ: মহাসড়কে লাইসেন্সহীন ও অনুপযোগী ট্রাক্টর, ট্রলি এবং অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। বেপরোয়া গতি রোধ: সায়েদাবাদ বাজারের মতো জনবহুল এলাকায় গতিরোধক নির্মাণ ও নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। কঠোর শাস্তি নিশ্চিতকরণ: দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালক ও পরিবহন মালিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা: মুমূর্ষু কিশোরী বৃষ্টির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার। রৌমারীর সায়েদাবাদের এই রক্তভেজা সড়ক যেন আমাদের শেষ সতর্কবার্তা হয়। প্রতিটি জীবনের মূল্য রয়েছে; চালকদের অবহেলা এবং প্রশাসনিক শিথিলতার কারণে আর কোনো মায়ের কোল খালি হতে পারে না, কোনো পরিবার যেন এভাবে ধূলিসাৎ হয়ে না যায়।
প্রধান উপদেষ্টা :সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ মনিরুজ্জামান, উপদেষ্টা :এস এম আজিজুর রহমান স্বপন, প্রধান প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ শাহীন, সহযোগি সম্পাদক : মোসা: শেখ মাজেদা, নির্বাহী সম্পাদক : ফাতেমা বেগম, সম্পাদক শেখ জান্নাতুল ফেরদাউস,সম্পাদক : শেখ শারফিয়া মরিয়ম,সম্পাদক এ্যাড:ফারুক হোসেন,প্রকাশক ও প্রধান বার্তা সম্পাদক :জাহারুল ইসলাম জীবন, বার্তা সম্পাদক - আশিষ সাহা, বার্তা সম্পাদক অমিত তালুকদার,বার্তা সম্পাদক গাজী মনিরুজ্জামান মনি,প্রবাসী সম্পাদক :মোঃ সেলিম রানা,হেড অফ মার্কেটিং মোঃ মামুন মোল্লা,অফিস সম্পাদক মোঃ রোমেল হোসেন।
অফিস ঠিকানা:কর্পোরেট অফিস :৫৫/বি নোয়াখালী টাওয়ার লিফটের ১৬ রুম নং ১৬/২ ঢাকা-১০০০ আঞ্চলিক অফিস :ডাকবাংলা মোড় আকাঙ্ক্ষা টাওয়ার লিফটের ৫ রুম নং ৫/বি২ খুলনা মোবাইল নাম্বার: অফিস 01911223672, প্রধান প্রকাশক ও সম্পাদক 01811441416, বার্তা সম্পাদক-01974580945
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক ঢাকার সময় । Website: www.thedhakersomoy.com