ঢাকার আকাশে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে রোদ উঠলেও সূর্যের তাপ খুব একটা অনুভূত হয়নি। ছিল কনকনে শীত। আবহাওয়া অফিস জানায়, সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এই শীত যেন হার মানে কুড়িল, পূর্বাচলের ৩০০ ফিট ও আশপাশের এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীসহ মানুষের আবেগ, উচ্ছ্বাস আর প্রত্যাশার কাছে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সন্নিকটে ৩০০ ফিট সড়ক ঘিরে আয়োজন করা হয় ১৭ বছর পর দেশে ফেরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্মসূচিটি ঘিরে আগের রাত থেকেই মানুষ সেখানে অবস্থান নিতে থাকে। অনেকেই চাদর ও কম্বল গায়ে জড়িয়ে রাত কাটায় খোলা আকাশের নিচে। তারেক রহমানকে একজনজর দেখতে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ৩০০ ফিট এলাকায় মানুষের ঢল নামে।
জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সব সড়ক, ফ্লাইওভার ও খোলা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে জনসমাগম।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরের মো. রফিকুল ইসলাম ভেণ্ডার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অবশেষে অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। রাত ২টার দিকে আমরা গাড়ি করে চলে আসছি। আজ সারা দিন আছি।
আশা করি তারেক রহমানের আসার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে স্বস্তি ফিরবে।’
৩০০ ফিটে দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদিকা খন্দকার মাহবুবা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের ইউনিট থেকে ৩০ জন এসেছি। আজ আমাদের ঈদের দিনের মতো আনন্দ লাগছে। নেতার (তারেক রহমান) আগমনে আশা করি দেশ ও দেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পাবে। মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর এলাকা থেকে যুবদলের ৪০০ জনের একটি দল সকালে আসে সমাবেশে। তাদের মধ্যে ছাত্রদলকর্মী বাবু আহম্মেদ সুমন বলেন, ‘নেতার কথা অনেক শুনেছি। আজ সামনাসামনি দেখব—এই আনন্দই আলাদা।’
শেরপুর বিএনপির সত্তরোর্ধ্ব চান মিয়া বলেন, ‘বুধবার এসেছি। ঠাণ্ডার মধ্যে এখানে রাত কাটিয়েছি। থাকা ও খাওয়ার কষ্ট হলেও এই কষ্টকে কষ্ট মনে হচ্ছে না। অনেক আনন্দ লাগছে।’ রাজধানীর কদমতলীর আজমল বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দল করি না। জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসি। তাঁর সন্তান দেশে ফিরছেন এটা আমাদের কাছে আবেগের ব্যাপার। কয়েকজন মিলে এসেছি তাঁকে দেখতে।’
বরিশালের বিএনপিকর্মী আসাদুজ্জামান জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাঁরা ৩০০ ফিট এলাকায় অবস্থান করছেন। সামনে মানুষের ঢল নামবে, তাই আগেভাগেই হালকা নাশতা সেরে নিচ্ছেন সবাই।
স্লোগানে মুখর : ‘তারেক রহমান বীরের বেশে, ফিরে এলেন বাংলাদেশে’, ‘তারেক রহমান আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’—এমন নানা স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ৩০০ ফিট এলাকা। হাতে হাতে দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টার আর মাথায় ও গায়ে লোগো দেওয়া ক্যাপ ও গেঞ্জি। এ ছাড়া ধানের শীষ গায়ে জড়িয়ে ও হাতে নিয়ে এসেছেন অনেক ভক্ত।
বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে যেমন নতুন গতি আসবে, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাতে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে, গণতান্ত্রিক আন্দোলন পাবে নতুন দিশা। ৩০০ ফিট এলাকা সাক্ষী হয়ে রইল এক ঐতিহাসিক জনসমাবেশের, যেখানে রাজনীতি, আবেগ আর মানুষের প্রত্যাশা একাকার হয়ে গেছে।
ভাসমান হোটেলে পরিণত কুড়িল বিশ্বরোড : জনসমাবেশ ঘিরে কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে ও বসুন্ধরা এলাকায় মঞ্চের আশপাশে গড়ে ওঠে শতাধিক অস্থায়ী খাবারের দোকান। তেহারি, খিচুড়ি, রুটি, পরোটা, ডিমভাজি, চা, বাদাম, চানাচুর, ঝালমুড়ি সবকিছুতেই ছিলেন ব্যস্ত বিক্রেতারা। খিচুড়ি বিক্রেতা রহমত আলী বলেন, ‘বুধবার বিকেল থেকেই বিক্রি ভালো হচ্ছে, তাই মনটাও ভালো।’
প্রধান উপদেষ্টা :সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ মনিরুজ্জামান, উপদেষ্টা :এস এম আজিজুর রহমান স্বপন, প্রধান প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ শাহীন, সহযোগি সম্পাদক : মোসা: শেখ মাজেদা, নির্বাহী সম্পাদক : ফাতেমা বেগম, সম্পাদক শেখ জান্নাতুল ফেরদাউস,সম্পাদক : শেখ শারফিয়া মরিয়ম,সম্পাদক এ্যাড:ফারুক হোসেন,প্রকাশক ও প্রধান বার্তা সম্পাদক :জাহারুল ইসলাম জীবন, বার্তা সম্পাদক - আশিষ সাহা, বার্তা সম্পাদক অমিত তালুকদার,বার্তা সম্পাদক গাজী মনিরুজ্জামান মনি,প্রবাসী সম্পাদক :মোঃ সেলিম রানা,হেড অফ মার্কেটিং মোঃ মামুন মোল্লা,অফিস সম্পাদক মোঃ রোমেল হোসেন।
অফিস ঠিকানা:কর্পোরেট অফিস :৫৫/বি নোয়াখালী টাওয়ার লিফটের ১৬ রুম নং ১৬/২ ঢাকা-১০০০ আঞ্চলিক অফিস :ডাকবাংলা মোড় আকাঙ্ক্ষা টাওয়ার লিফটের ৫ রুম নং ৫/বি২ খুলনা মোবাইল নাম্বার: অফিস 01911223672, প্রধান প্রকাশক ও সম্পাদক 01811441416, বার্তা সম্পাদক-01974580945
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক ঢাকার সময় । Website: www.thedhakersomoy.com