সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের রাজনগর যামে সম্প্রতি এক আলোচিত ঘটনা ঘটে। গত ২২ অক্টোবর রাতে রাজনগর কবরস্থান সংলগ্ন কামারখাল নদীর পাড়ে ছয় জেলের টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় একই গ্রামের কাপ্তান মিয়া—এমন খবর প্রকাশিত হয় বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে।
ঘটনাটি প্রকাশের পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সুনামগঞ্জ থেকে অমিত তালুকদারের পাঠানো তথ্যচিত্রে
এ ঘটনায় দিরাই সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১ নম্বর ভিকটিম শরিফ উদ্দীনের পিতা জিয়াউর রহমান বলেন,
“কাপ্তান মিয়া কিংবা তার পরিবারের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। আগেও কাপ্তান মিয়া আমার ছেলের সঙ্গে একসাথে মাছ ধরেছে। কিন্তু হঠাৎ লোভের বশবর্তী হয়ে সে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, তার পরিবার বিষয়টি জানার পরও তাকে সমর্থন দিচ্ছে।”
ভিকটিম আরিফ উদ্দীনের পিতা অভিযোগ করে বলেন,
“এক লক্ষ সত্তর হাজার টাকা এবং এক লিটার মজোর মধ্যে বিষাক্ত কিছু মিশিয়ে আরিফ উদ্দীনসহ সঙ্গে থাকা অন্যদের খাওয়ানো হয়েছে। যা ডাক্তারের রিপোর্টে উল্লেখ আছে।”
ভিকটিম কামাল মিয়াও জানান, কামারখাল নদীতে জাল টানতে সাধারণত আটজন মানুষের প্রয়োজন হয়। সেই সময় কাপ্তান মিয়া তাদের জন্য খাবার নিয়ে আসে এবং সবাইকে তা খেতে দেয়। কিন্তু খাওয়ার কিছুক্ষণ পর তারা ধীরে ধীরে অচেতন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত কাপ্তান মিয়ার পিতা সালেক মিয়া বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন,
“আমার ছেলে কাপ্তান মিয়া ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে বেড়াতে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে, কয়েকজন ব্যক্তি মদ, গাঁজা সেবন করছে এবং জুয়া খেলায় মগ্ন। সে বিষয়টি ফোনে ধারণ করে এবং গ্রামের লোকদের দেখাবে বলে জানায়। তখনই তারা কাপ্তান মিয়ার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে নেয় এবং টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।”
তিনি আরও বলেন,
“কামারখাল নদী থেকে তারা লিজ ছাড়া অবৈধভাবে মাছ শিকার করে আসছে। এইসব বিষয়ে কথা বলায় আমার ছেলের আইফোন ও কিছু টাকা-পয়সা নিয়ে যায়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করছি।”
অন্যদিকে কাপ্তান মিয়ার ভাই জানান,
“আমার ভাই ঘটনাস্থলে শুধু মাছ দেখতে গিয়েছিল। সেখানে কামাল নামের একজন নেশার জন্য টাকা চায়। টাকা না দেওয়ায় তাদের মধ্যে তর্ক হয়, পরে তার মোবাইল নিয়ে নেয়।
আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অচেতন করার ওষুধ খাওয়ানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। শরিফ নামের একজন নিজের দোকান থেকে ঠান্ডা নিয়ে গিয়েছিল, সেটিই পরে তারা পান করে।”
তিনি আরও বলেন,
“ঘটনার আগে কামাল মিয়া ও আমিনুর বাড়ি গিয়েছিল, সেখান থেকে ফিরে এসে এই ঘটনা ঘটে। আমরা চাই, ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।”
ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসনের তদন্ত চলছে।
উভয় পক্ষই তাদের বক্তব্য দিয়েছে এবং প্রত্যেকে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন।
সুনামগঞ্জ দিরাই থেকে অমিত তালুকদার।