ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদে রাতভর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে ছাত্র-জনতা।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালেও শাহবাগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। ভোরে আন্দোলনকারীরা মাইকে আজান দিয়ে শাহবাগ মোড়েই ফজরের নামাজ আদায় করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জুলাই মঞ্চের কর্মী-সমর্থকরা শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য চত্বর ও রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন। পরে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিল নিয়ে শাহবাগে পৌঁছান। শাহবাগের কর্মসূচিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তির কর্মসূচির সঙ্গে একে একে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম অংশ নেন। পরে এনসিপির অন্যান্য নেতারাও বিক্ষোভে যোগ দেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সাবেক এই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরবর্তী সময় অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে (এসজিএইচ) পাঠানো হয়। সেখানেই দীর্ঘ লড়াই শেষে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।