ফরিদপুরে সদরপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সার্ভিস বুক জালিয়াতির অভিযোগ সহ একাধিক অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার রাশেদ খান
ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আজাহার মিয়া-এর বিরুদ্ধে সার্ভিস বুক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে একাধিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে ।
প্রধান শিক্ষক মোঃ আজাহার মিয়া সার্ভিস বুক জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ,সার্ভিস বুক আমার কাছে থাকে না। এটি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অফিসে সংরক্ষিত থাকে। সার্ভিস বুক জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই।” এবং তিনি আর বলেন পূর্বের কর্মস্থল গুলোতে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এবং বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়েছিলো তিনি স্বীকার করেন। এছাড়াও তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল গুলোতে অনুসন্ধান করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় গুলোর বর্তমান প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকগণের বক্তব্য নেয়া হয়।
প্রতিনিধি দলের অনুসন্ধানে বেশ কিছু উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছেসার্ভিস বুকের কয়েকটি পৃষ্ঠা নতুন করে সংযুক্ত করা হয়েছে।নতুন সংযুক্ত পৃষ্ঠার কাগজের রঙ পুরনো পৃষ্ঠাগুলোর সঙ্গে মিল নেই।প্রধান শিক্ষক মোঃ আজাহার মিয়ার বিরুদ্ধে পূর্বে যেসব বিভাগীয় মামলা ও শাস্তি হয়েছিল, তার কোনো এন্ট্রি সার্ভিস বুকে পাওয়া যায়নি।
সার্ভিস বুকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পূর্বের তথ্য অনুপস্থিত যাহা জালিয়াতি করে পূর্বের পৃষ্ঠা সড়িয়ে নতুন পৃষ্ঠা যুক্ত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আজহার মিয়ার সার্ভিস বুকের পৃষ্ঠা পরিবর্তন করা হয়েছে এটা অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে। উক্ত সার্ভিস বুকের পৃষ্ঠা খুলে নতুন পৃষ্ঠা সেলাই করে লাগানোর সময় সে তার সার্ভিস বুকের কভার পেজ পরিবর্তন করেছে এটি প্রমাণ পাওয়া গেছে। একটি রেজিস্টার খাতার কাভার পেজ দিয়ে সার্ভিস বুকের নতুন কাভার পেজ তৈরি করেছে। আগের কাভার পেজে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক প্রথম চাকুরী ঢাকা জেলার দোহার থানার মুকসুদপুর স্কুলের ঠিকানা লেখা থাকলেও পরিবর্তিত কভার পেজে তাহার বর্তমান কর্মস্থল আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নাম্বার শুধু ১৪ নং লেখা পাওয়া গেছে। অনুসন্ধান করে আরো জানা গেছে প্রতিটা সরকারি কর্মকর্তার সার্ভিস বুকের কাভার পেজে প্রথম যোগদানের তারিখ এবং ঠিকানা থাকে যাহা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের সার্ভিস বুকে পাওয়া যায় নাই। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের সার্ভিস বুকের পৃষ্ঠা বদলের মাধ্যমে আজাহার মিয়া বাবুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বালিয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বদলি ও বিভাগীয় মামলায় শাস্তি ও ইনক্রিমেন্ট কর্তনের তথ্য উক্ত সার্ভিস বুক থেকে সরিয়ে ফেলেছেন। বালিয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হয়েই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তাহার সার্ভিস বুক জালিয়াতি করেছে মর্মে একটি সূত্রে জানা যায়।
যদিও অভিযুক্ত শিক্ষক আজাহার মিয়া পূর্বের কর্মস্থল গুলোতে যেসকল বিভাগীয় মামলা এবং শাস্তি হয়েছিল তিনি সাক্ষাৎকারের স্বীকার করেছেন। এবিষয়ে সদরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মামুনুর বলেন “আপনাদের মাধ্যমে আমরা অভিযোগটি জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রধান শিক্ষকসহ এই জালিয়াতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির সুপারিশ করা হবে।”
এরপর সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন—“এই অভিযোগ সম্পর্কে আপনাদের মাধ্যমে আমি প্রথম জানলাম। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আজাহার মিয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রশ্ন থেকেই গেল সার্ভিস বুক জালিয়াতির অভিযুক্ত শিক্ষক আজাহার মিয়া পূর্বের কর্মস্থল গুলোতে যেসকল বিভাগীয় মামলা এবং শাস্তি হয়েছিল তিনি স্বীকার করেছেন এবং অনুসন্ধানের্ সত্যতা পাওয়া মিলেছে । তাহলে কেন তার সার্ভিস বুকে পূর্বের তথ্য এন্টি নেই। তাহলে কি পূর্বের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তিনি সার্ভিস বুক জালিয়াতি করেছেন? এ বিষয়ে প্রশাসন কি ধরনের ব্যবস্থা তার বিরুদ্ধে গ্রহণ করেন এটাই এখন দেখার পালা।