সুদানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় শান্তিরক্ষীর মধ্যে একজন ছিলেন সবুজ মিয়া (২৮)। তিনি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ছোট ভগবানপুর পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা। তিনি মরহুম হাবিদুল আকন্দের ছেলে। পেশাগতভাবে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে লন্ড্রিম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ১৩ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সুদানে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় তিনি শহীদ হন। আজ রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তার মরদেহ গাইবান্ধা আসার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সময় পরিবর্তন করে ১১টা নির্ধারণ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া খারাপ থাকায় তার মরদেহ এখনো গাইবান্ধা আসেনি। তার স্বজনরা বলছেন, বাদ জোহর তার নামাজে জানাজা বাড়ি সংলগ্ন একটি জমিতে অনুষ্ঠিত হবে।
তারা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনীর বিশেষ একটি হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ গাইবান্ধার তুলসীঘাট হেলিপ্যাডে আনা হবে। এরপর অ্যাম্বুল্যান্সযোগে তার মরদেহ বাড়িতে আনা হবে। এরপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদ সবুজ মিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। গার্ড অব অনার শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ সবুজ মিয়ার মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সকাল থেকেই দলে দলে শিশু, নারী, পুরুষ ছুটে আসছেন তার বাড়িতে। কবর খোঁড়ার কাজ শেষ হয়েছে। কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।
শহীদ সবুজ মিয়া ছোটবেলায় তার বাবাকে হারান। মা সকিনা বেগম, স্ত্রী নুপুর আক্তার ও বোন আফরিমা বেগম এবং দুই ভাগনে-ভাগনিকে নিয়ে সবুজের সংসার ছিল। তারা তার প্রতীক্ষায় রয়েছেন। সবুজ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
সবুজের মা ছকিনা বেগম বলেন, ‘হামার (আমার) ছোলটার জন্য, কলিজার টুকরার জন্য সগলের (সকলের) দোয়া চাই।’