সদরপুরে ভূমি উন্নয়ন করের ভুয়া দাখিলা তৈরি, যুবকের বিরুদ্ধে মামলা
ফরিদপুরের সদরপুরে স্মার্ট ভূমি উন্নয়ন করের ভুয়া দাখিলা তৈরির অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আকোটের চর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দেবাশীষ রায় বাদী হয়ে সদরপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযুক্ত যুবকের নাম রাকিবুল ইসলাম ওরফে রাকিব মিয়া। তিনি উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের মোলামের ডাঙ্গী এলাকার আব্দুল ছত্তার বেপারীর ছেলে।
সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সদরপুর উপজেলার আকোটের ইউনিয়ন কৃষ্ণমঙ্গলের ডাঙ্গী মৌজার নামজারি ৪৩৬৯ মামলার ২৬৫৪ খতিয়ানের দাখিলার ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য মো. মোস্তফিজুর রহমানের পক্ষে তার আত্মীয় কামরুল ইসলাম আসেন। তখন ভূমি কর্মকর্তা জানান, বদলিজনিত কারণে নামজারি আইডি সচল না হওয়ায় খতিয়ান সমন্বয় করা ও দাখিলা প্রদান করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। এরপরই কামরুল ইসলাম দাখিলা নিয়ে দলিল করতে গেলে সাব-রেজিস্ট্রার স্ক্যানের মাধ্যমে চেক করে দাখিলা ভুয়া মনে হলে সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জানান।
দলিলদাতাকে জিজ্ঞাসা করে জানা যায়, তার আত্মীয় কামরুল ইসলামের মাধ্যমে দাখিলা কেটেছেন। এরপর কামরুল ইসলাম জানান, আকোটের চর ইউনিয়নের মোলামের ডাঙ্গী এলাকার আব্দুল ছত্তার বেপারীর ছেলে রাকিবুল ইসলাম ওরফে রাকিব মিয়ার মাধ্যমে দাখিলা পেয়েছেন।
এজাহারে আরো বলা হয়, ওই দাখিলা যাচাই করে দেখা যায়, দাখিলা প্রকৃতপক্ষে জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে। সদরপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া অভিযুক্তের মোবাইল ফোন তল্লাশি করেন।
এসময় একটি যুক্তরাজ্যের নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযুক্তকে ভুয়া দাখিলা প্রেরণ করা হয়েছে। বিনিময়ে অভিযুক্তকে ২ হাজার ৪০০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। আইনবহির্ভূতভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে দাখিলা সৃষ্টি করায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৬৫ ও ৪৬৮ ধারায় অপরাধ করেছেন মর্মে পরিলক্ষিত হয়।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, স্মার্ট ভূমি উন্নয়ন করের ভুয়া দাখিলা তৈরি করে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে সাব রেজিস্ট্রারের সন্দেহ হলে তিনি আমাকে জানান। পরে আমরা ভুয়া দাখিলা প্রস্তুতকারককে শনাক্ত করতে সক্ষম হই।
এ বিষয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
সদরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল-মামুন শাহ্ বলেন, এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি, প্রতারক যুবককে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, প্রতারণামূলক ভুয়া সাইটের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। অনলাইন প্রতারণা থেকে নিরাপদে থাকতে ভূমিসেবা সাইটে প্রবেশের সময় ইউআরএল অ্যাড্রেস https://land.gov.bd অথবা https://www.land.gov.bd যাচাই করতে হবে। সরাসরি ভূমি উন্নয়ন করসংক্রান্ত নিরাপত্তার জন্য দাখিলায় প্রদত্ত QR কোড স্ক্যান করে https://www.ldtax.gov.bd/ dakhila অথবা https://ldtax.gov.bd/ dakhila ইউআরএল অ্যাড্রেস নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রতারকরা https://www.portal.gov.bd অথবা https://portal.ldtax.gov.bd এর সঙ্গে অতিরিক্ত dakhila কিংবা ডোমেইন নামসহ ইউআরএল অ্যাড্রেসের অন্যান্য অংশে বিভিন্ন অক্ষর যেমন : ‘a’, ‘1’ ইত্যাদি যুক্ত করে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে দাখিলা সরবরাহ করছে বলে জানা গেছে। এ ধরনের কাজকে ইউআরএল স্পুফিং বলা হয়ে থাকে। ইউআরএল স্পুফিং করে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা ফিশিংয়ের মাধ্যমে হ্যাকিংসহ বিবিধ ধরনের সাইবার অপরাধ সংগঠিত করা হয়ে থাকে। এভাবে মূল্যবান তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি ডিভাইসে ম্যালওয়্যারের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়।
সূত্র কালের কণ্ঠ