দিনাজপুরে পুলিশ সুপারের নাম ব্যবহার করে নির্বাচনকালীন পুলিশ বক্স স্থাপনের কথা বলে দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তির কাছে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। ওই দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদ সম্মেলন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন। প্রতারণার শিকার দুই ব্যক্তি হলেন- দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিল্পপতি হাফিজুর রহমান সরকার ও দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান মিয়া।
গ্রেপ্তার দুই প্রকারক হলেন- জুনাইদ খন্দকার (২৪)। তিনি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রয়েরবাড়ী চরহোসেনপুর গ্রামের ইদ্রিস খন্দকারের ছেলে। অপরজন হলেন মো. হিমেল (২২), ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরহোসেনপুর গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতারক চক্রটি দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান সরকার এবং আখতারুজ্জামান মিয়ার কাছে হোয়াটসঅ্যাপে পুলিশ সুপারের ছবি যুক্ত নম্বর দিয়ে কল করে নিজেদের দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা পরিচয় দেয়।
এ সময় তারা জানায়, নির্বাচনকালীন দিনাজপুর-চিরিরবন্দর সড়কে পুলিশ বক্স স্থাপন করা হবে- এমন ভুয়া তথ্য দিয়ে অর্থ সহায়তা চায়। এ সময় ওই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তি প্রতারক চক্রের দেওয়া বিকাশ নম্বরের দুই লক্ষ টাকা প্রদান করেন। পরে আবারও একই নম্বর থেকে ফোন করে আবারও টাকা চাওয়া হয়। তখন বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ক্ষতিগ্রস্তরা পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন।
বিষয়টি জানার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ থেকে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
তিনি আরো বলেন, এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে। এরা সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং সরকারি উচ্চপদস্থ থেকে শুরু করে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদেরও টার্গেট করে। মোবাইল ফোনে ভয়ভীতি প্রদর্শন, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মিথ্যা আশ্বাসসহ নানা কৌশলে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিতে নিচ্ছে।
প্রতারণার শিকার বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে যখন ফোন এলো, দেখলাম এসপির নম্বর থেকে, ফোন স্ক্রিনে ছবিও ভেসে উঠল এসপির। পরিচয় দিয়ে পুলিশ বক্স নির্মাণের জন্য সহযোগিতা চাইল। আমার সহকারীকে বলে সিএসআর ফান্ড থেকে টাকা পাঠিয়ে দেই। ঘণ্টাখানেক পরে আবার ফোন করে বলে, কাস্টমসের কিছু মালামাল আছে স্বল্পমূল্যে কেনার সুযোগ আছে। তখন সন্দেহ হলে ভিডিও অন করি। তখনি ফোনকলটি কেটে দেওয়া হয়।
এমপি প্রার্থী আখতারুজ্জমান মিয়ার কর্মী ইমরান হোসেনের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ জানুয়ারি রাতে ফোন পান আখতারুজ্জামান মিয়া। ফোনে জানানো হয়, দুটি পুলিশ বক্স বানানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে, আইজিপি পরিদর্শনে আসবেন। ফোন পেয়ে আখতারুজ্জামান মিয়া ইমরান হোসেনকে টাকা পাঠানোর দায়িত্ব দেন। পরদিন বিকেলে প্রতারক চক্রের দেওয়া মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে এক লাখ টাকা পাঠান ইমরান। রাতে আবারও এক লাখ টাকার জন্য আখতারুজ্জামান মিয়াকে পুনরায় ফোন করা হলে সন্দেহ হয় এবং চিরিরবন্দর থানায় বিষয়টি অবহিত করে প্রতারক চক্রের বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি।
এ ঘটনায় দিনাজপুর চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই প্রতারকের দেওয়া তথ্যে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগী ও নেতৃত্বদানকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।