খুলনায় ফ্যাসিবাদ আওয়ামী মন্ত্রীর আত্মীয় খাদ্য পরিদর্শক মমতাজ পারভীনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি
খুলনায় ফ্যাসিবাদ আওয়ামী মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে খাদ্য পরিদর্শক মমতাজ পারভীনের বিরুদ্ধে সরকারি খাদ্য বিতরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগের দোসর এর তালিকায় রয়েছে খাদ্য পরিদর্শক মমতাজ পারভীন, শেখ কাজল রহমান, ঝুমুর দাস, এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুস বাণিজ্য, ঠিকাদার ও ডিলারদের সঙ্গে আঁতাত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, বিল বৃদ্ধি করে কমিশন গ্রহণ এবং সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করে সম্পদের পাহাড় গড়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া একই অভিযোগে অভিযুক্ত খুলনায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের খাদ্য পরিদর্শক সাবরিনা কবির আবারও যোগদান করেছেন।
এছাড়া খাদ্য পরিদর্শক মমতাজ পারভীনের স্বামী মহানগর যুবলীগের সদস্য রুবেল ৪ নং ওয়ার্ডের ওএমএস এর ডিলার থাকাকালীন খাদ্য বিভাগের বরাদ্দকৃত চাল বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের ছাত্র প্রতিনিধি আসাদুল্লাহ গালিব মমতাজ পারভীনের বিরুদ্ধে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগে গালিবের দাবী, মমতাজ পারভীন ৩১টি ওএমএস ডিলার পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন এক হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে আদায় করতেন এবং এই ডিলারদের মাধ্যমে দরিদ্রদের খাদ্যসামগ্রী কালোবাজারে বিক্রি করতে বাধ্য করতেন। গালিব আরও জানান, মমতাজ পারভীন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলায় তাকে হুমকি দিয়েছেন এবং মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।
গালিবের দাবী, মমতাজ পারভীন ৩১টি ওএমএস ডিলার পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন এক হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে আদায় করেন এবং এই ডিলারদের মাধ্যমে দরিদ্রদের খাদ্যসামগ্রী কালোবাজারে বিক্রি করতে বাধ্য করেন। গালিব আরও জানান, মমতাজ পারভীন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলায় তাকে হুমকি দিয়েছেন এবং মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।
মমতাজ পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ৩১টি পয়েন্ট থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১২ লাখ টাকা লুটপাট করছেন।
একাধিক অভিযোগও সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরেও কিভাবে তার দায়িত্ব অটুট রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সকল অভিযোগ সত্ত্বেও আওয়ামী মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় এ মমতাজ পারভীনের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি কেন কোন শক্তিতে।
স্থানীয়রা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন যে, যদি এখনই কোন ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে তার দুর্নীতির সাম্রাজ্য আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
এই পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যাতে তারা দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে সক্ষম হন।
ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা জানান, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি জন্য সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে খাদ্য সামগ্রী থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারের কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। “ঘুস না দিলে কোনো কাজ হয় না। খাদ্য গুদাম থেকে শুরু করে ওএমএস-সব জায়গায় অনিয়ম চলছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এসব অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছে। উচ্চপর্যায় থেকে সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের দুর্নীতি চলতে থাকেলে খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন হবে এবং সরকারি কর্মসূচির লক্ষ্য ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
এসব বিষয় জানার জন্য খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ কে কয়েকবার মোবাইল নাম্বারে ফোন করলে তিনি ফোনটি ধরেননি।