আখাউড়ায় নামের আগে ‘ডাক্তার’ লিখে প্রতারণা: ভুয়া চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
মো: হাবিব খান ব্রাক্ষনবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি (আখাউড়া)
১৩ জানুয়ারি ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় নামের আগে ‘ডাক্তার’ উপাধি ব্যবহার করে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে নারায়ণ চন্দ্র পাল নামের এক ভুয়া চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার তন্তর বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এ অভিযান পরিচালনা করে।
ঘটনার বিবরণ
অভিযান সূত্রে জানা যায়, তন্তর বাজারের ‘নয়ন ফার্মেসি’র মালিক নারায়ণ চন্দ্র পাল কোনো ধরনের বৈধ চিকিৎসা সনদ (MBBS বা স্বীকৃত কোনো ডিগ্রি) ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখছিলেন। তিনি নিয়মিত রোগীপ্রতি ২০০ টাকা ভিজিট নিতেন এবং প্রেসক্রিপশনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ লিখে আসছিলেন।
প্রশাসনিক অভিযান
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী। তদন্তে দেখা যায়:
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো বৈধ যোগ্যতা নেই।
তিনি প্রতারণামূলকভাবে নিজের নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে আসছিলেন।
কোনো প্রকার বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ প্রদান করছিলেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তাকে তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা
স্থানীয়দের মতে, গ্রামাঞ্চলে এমন অসংখ্য হাতুড়ে ডাক্তার বা ফার্মেসি মালিক বিশেষজ্ঞ সেজে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। বিশেষ করে আন্দাজে অ্যান্টিবায়োটিক ও ইনজেকশন ব্যবহারের ফলে রোগীরা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি এমনকি মৃত্যুর মুখেও পড়ছেন। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে প্রকৃত ও সৎ ব্যবসায়ীরাও প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের আহ্বান
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য যে:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিটি উপজেলায় সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।
এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়।
ভুয়া চিকিৎসকদের থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি কোনো সন্দেহ হলে প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।