কালিহাতীতে হার্ভেস্টার মেশিনের অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ
শরিফুল ইসলাম টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ধান কাটার হার্ভেস্টার মেশিনের অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রতারণা ও পাওনা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোঃ মোসলেম উদ্দিন (৫২) নামে এক ব্যক্তি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পান্দিনা নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মোসলেম উদ্দিন প্রায় পাঁচ বছর আগে দড়ি খসিলা গ্রামের মোঃ শাহজাহান আলীর সঙ্গে সমান অংশীদারিত্বে একটি ধান কাটার হার্ভেস্টার মেশিন ক্রয় করেন। চুক্তি অনুযায়ী মেশিনটি আসামীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছিল এবং আয়-ব্যয় উভয়ে সমানভাবে বণ্টন করতেন।
কিন্তু অভিযোগকারী জানান, গত দুই বছর ধরে মোঃ শাহজাহান আলী কোনো ধরনের হিসাব না দিয়ে বিভিন্ন তালবাহানায় সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে মালিকানা অস্বীকার করে তিনি জানান, হার্ভেস্টার মেশিনটির সকল কাগজপত্র এককভাবে নিজের নামে করে নিয়েছেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার প্রার্থনা করলে গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি শালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ (সাবেক চেয়ারম্যান, সহদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদ)। শালিসে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যে অভিযোগকারীর নাম মালিকানা কাগজে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিগত দুই বছরের লভ্যাংশ বাবদ ১২ লাখ টাকা পরিশোধের মৌখিক অঙ্গীকার করেন অভিযুক্ত শাহজাহান আলী। একইসঙ্গে হার্ভেস্টার মেশিনের দখল অভিযোগকারীর কাছে বুঝিয়ে দেন।
তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো অর্থ পরিশোধ কিংবা মালিকানা সংক্রান্ত দলিল সম্পাদন না করে টালবাহানা করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন মোঃ মোসলেম উদ্দিন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে স্থানীয় মাতব্বরদের সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে পাওনা অর্থ ও কাগজপত্রের বিষয়ে কথা বলতে গেলে শাহজাহান আলী সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি অভিযোগকারীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী। তিনি এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।