কেন্দুয়ায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জামায়াতের লিখিত আবেদন
মোঃ আব্দুল আউয়াল খান
স্টাফ রিপোর্টার ময়মনসিংহ
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দুয়া উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ জানুয়ারি কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ী ইউনিয়নের কলসাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অফিস সংলগ্ন মাঠে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানের ব্যানারে নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালীর নেতৃত্বে দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ফুলের মালা পরিয়ে বিএনপিতে যোগদান করানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অনুষ্ঠানে প্রচারণাকালে বলা হয়—উক্ত ব্যক্তিবর্গ পূর্বে জামায়াতের কর্মী ছিলেন, যা স্থানীয় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
এছাড়া গত ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে জামায়াতের দুই কর্মীকে তাদের নিজস্ব দোকান থেকে তুলে এনে রাস্তায় মারধর করতে করতে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে গুরুতরভাবে নির্যাতন করা হয়। তাদের চিৎকারে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণ এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারীদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনী সার্জেন্ট মাহবুবুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের নাম অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে দাবি করা হয়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে জামায়াতের শুভাকাঙ্ক্ষী, সমর্থক ও কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে। এতে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।
এমতাবস্থায় সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির লক্ষ্যে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মোঃ সাইফুল ইসলাম।
অভিযোগপত্রের অনুলিপি নেত্রকোণার পুলিশ সুপার, কেন্দুয়ার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, কেন্দুয়া আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার এবং কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।