কসবা-আখাউড়ায় বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে ষড়যন্ত্র: নেপথ্যে ‘আওয়ামী ঘনিষ্ঠ’ জহিরুল হক চৌধুরী
মো : হাবিব খান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
(কসবা-আখাউড়া)
আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে আপিল করেছেন জহিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। নিজেকে ‘গণঅধিকার পরিষদ’ (কসবা-আখাউড়া ) প্রার্থী এর পরিচয় দিয়ে এই আপিল করা হলেও অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তার চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড।
ভুয়া পরিচয়ে আপিলের নেপথ্যে কে এই জহিরুল?
অভিযোগকারী জহিরুল হক চৌধুরী নিজেকে গণঅধিকার পরিষদের নেতা দাবি করলেও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি মূলত ইতালি-সুইডেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি। অর্থাৎ, প্রবাসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে আওয়ামী লীগের ‘ধূসর চরিত্র’ হিসেবে জহিরুলকে মাঠে নামানো হয়েছে।
নির্বাচনী ইতিহাসের ‘অংশগ্রহণকারী’
জহিরুল হক চৌধুরী অতীত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি কেবল অভিযোগকারীই নন, বরং আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে হওয়া বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর নিয়মিত অংশীদার। তিনি:
২০১৪ সালের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে: একই আসন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩) থেকে আবারো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়েছিলেন।
উল্লেখ্য যে, ওই নির্বাচনগুলো দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বর্জন করেছিল এবং সেই সময় ‘ডামি’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়
মুশফিকুর রহমানের সমর্থক ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, কসবা-আখাউড়ায় মুশফিকুর রহমানের জনপ্রিয়তা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। জহিরুল হক চৌধুরী মতো ‘ছদ্মবেশী’ ব্যক্তিদের ব্যবহার করে আইনি জটিলতা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে নির্বাচনের মাঠ থেকে জনপ্রিয় প্রার্থীকে সরিয়ে দেওয়া যায়।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমান এর , মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন৷ তবে অভিযোগকারীর রাজনৈতিক পরিচয় ফাঁস হওয়ায় পুরো বিষয়টি এখন সাধারণ মানুষের কাছে ‘রাজনৈতিক চাল’ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।