তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার শপথ পড়ানোর মধ্য দিয়ে শপথ দানের হ্যাট্টিক করলেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি একমাত্র সৌভাগ্যবান প্রেসিডেন্ট, যিনি ভিন্ন তিন বৈশিষ্ট্যের সরকারের শপথ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার উন্মুক্ত মঞ্চে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। সরকার হিসেবে এটি বাংলাদেশের ১৩তম। আর তারেক রহমান হয়েছেন বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর শপথ নেন ৪৯ তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ। এর মধ্যে ২৪ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। তাদের তিন ধাপে শপথ বাক্য পাঠ করান মহামান্য প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রক্তান্ত অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। তিনিসহ তার মন্ত্রিপরিষদের সকল সদস্য এবং পুরো সংসদ পালিয়ে যান। বলা চলে টানা তিন দিন বাংলাদেশ ছিলো সরকারবিহীন।
এ সময় রাষ্ট্রের কাস্টোডিয়ান হিসেবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে এককভাবে দেশের হাল ধরে রাখেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
পরে ছাত্র-জনতার আকাঙ্খার প্রেক্ষিতে সর্বজনগ্রাহ্য, নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত ১৭ সদস্যের সরকারের শপথ বাক্যও পাঠ করিয়েছিলেন আলোচিত-সমালোচিত মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
এর আগে ২০২৪ সালে কথিত ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের পর ১১ জানুয়ারি শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারেরও শপথ বাক্য পাঠ করান মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন ২৭ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা এবং ১৯৮১ সালের একজন সম্মুখযোদ্ধা। তিনি জেলা জজ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। পরে তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার (তদন্ত) নিয়োগ চুক্তিভত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১৬ সালে সেখান থেকেও অবসর নেন। পরে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে ‘পরীক্ষিত দলীয় লোক’ হিসেবে দেশের ২২তম প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেন শেখ হাসিনা। পূর্বতন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তাকে নিয়োগ দেয়া হয় দেশের সর্বোচ্চ পদে। প্রায় তিন বছরের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের প্রায় পুরো সময় জুড়ে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ছিলেন আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে। চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতা তার পদত্যাগের দাবি তোলেন। বঙ্গভবন ঘেরাওসহ তার পদত্যাগের দাবিতে পালিত হয় নানা কর্মসূচি। এ সময় তিনি পদত্যাগ করতেও উদ্যত হন। কিন্তু দেশ এক চরম নৈরাজ্য ও সাংবাধিক সঙ্কটে পড়ে যােেব-এমন আশ্ঙ্কায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে নিবৃত হন। নিয়োগের মাত্র তিন বছরের মধ্যে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের তিনটি সরকারকে শপথ দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শুধূ শপথ প্রদানের হ্যাট্টিকই করেন নি-স্থাপন করলেন এক অনন্য রেকর্ড।