ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধরের অভিযোগ
ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিনিধি
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিজ দপ্তরের এক নিরাপত্তা প্রহরীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ ওয়ালি উল্লাহ অফিসে প্রবেশের সময় গেট খোলায় বিলম্ব হওয়ায় দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরী ঈসমাইল হোসেনের ওপর ক্ষুব্ধ হন। এক পর্যায়ে তিনি ঈসমাইলকে ডেকে গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর আহত ঈসমাইল হোসেন চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। পরে তিনি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ঈসমাইল হোসেন বলেন, “আমি দায়িত্ব পালনকালে কোনো অবহেলা করিনি। সামান্য সময়ের বিলম্বের কারণে আমাকে অপমান ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অন্যদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ ওয়ালি উল্লাহ বলেন, তিনি কাউকে মারধর করেননি। তবে রমজান মাসে উত্তেজিত হয়ে ‘সামান্য স্পর্শ’ করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনার পর জেলা নির্বাচন অফিসের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে এর আগেও অসন্তোষ ছিল। তাঁদের অভিযোগ, কর্মচারীদের সঙ্গে প্রায়ই অশোভন আচরণ করা হয়, যা দপ্তরের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
কর্মচারীরা নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ নিয়েও অতীতে অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি বর্তমানে জেলায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।