সংঘর্ষ, মামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য লাউকুড়া: চরম দুর্দশায় নারী-শিশু
মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল
ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের লাউকুড়া গ্রাম ভয়াবহ সহিংসতা, পাল্টাপাল্টি মামলা এবং গ্রেপ্তার আতঙ্কে কার্যত জনশূন্যতার সংকটে পড়েছে। সংঘর্ষ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থাকায় পুরো গ্রামটি এখন নারীদের কাঁধে টিকে থাকা এক অসহায় জনপদে পরিণত হয়েছে। জীবনযাত্রার স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে পড়ে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে গভীর মানবিক বিপর্যয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মার্চ সকালে পাশের হেমন্তগঞ্জ গ্রাম থেকে শতাধিক নয়, প্রায় চার থেকে পাঁচ শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লাউকুড়া গ্রামের চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয়। পরে তারা কাশেম চেয়ারম্যানের বাড়িঘর লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর ও আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা ঘরে থাকা নারী-পুরুষের ওপরও নির্বিচারে আক্রমণ চালায়।
এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছে। সাতজনকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সংঘর্ষের পর গ্রামে নেমে আসে তীব্র আতঙ্ক। গ্রেপ্তার ও মামলার আশঙ্কায় অধিকাংশ পুরুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো ভেঙে পড়েছে। কৃষিকাজ বন্ধ, উপার্জনের পথ বন্ধ, বাজার করা থেকে শুরু করে চিকিৎসা—সব দায়িত্ব এখন নারীদের কাঁধে এসে পড়েছে। বহু পরিবার খাদ্যসংকট ও চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধই এ সংঘর্ষের মূল কারণ। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার অভিযোগও সামনে এসেছে। এদিকে হৃদরোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হত্যা মামলা হতে পারে—এমন গুঞ্জনে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ মামলা করেছে এবং এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
মৃত্যুর ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
লাউকুড়া গ্রাম এখন আতঙ্ক, নীরবতা এবং অনিশ্চয়তার এক প্রতীক। দ্রুত স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে এনে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে