প্রবাসীর বাড়ি থেকে ৬ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গৃহবধূ নিখোঁজ, থানায় অভিযোগ
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সৌদি প্রবাসীর বসতঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে এক গৃহবধূ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে চান্দিনা থানা-এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার ২নং বাতাঘাসী ইউনিয়নের নলপুনী গ্রামের সৌদি প্রবাসী মহিদুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় ১৭ বছর আগে শারমিন আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। শারমিন আক্তার (২৯), পিতা-মোঃ কালু মিয়া, মাতা-আয়েশা বেগম, গ্রাম-কংগাই—তার দাম্পত্য জীবনে তিন সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে পরিবারে অশোভন আচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। বাদীর দাবি, শারমিন আক্তার স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসানের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। মেহেদী হাসান, পিতা-দাদ্বন, মাতা-খুকি বেগম, গ্রাম-নলপুনী, ২নং বাতাঘাসী ইউনিয়ন, ৮নং ওয়ার্ড—বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন। অভিযোগে বলা হয়, তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে শারমিন আক্তার সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। এ ঘটনায় স্থানীয় আমান উল্লাহ (পিতা-লতিফ), গ্রাম-নলপুনী, ২নং বাতাঘাসী ইউনিয়ন, ৮নং ওয়ার্ড—শারমিন আক্তারকে পালিয়ে যেতে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে শারমিন আক্তার অন্যান্য অভিযুক্তদের সহায়তায় স্বামীর ঘরে থাকা নগদ ৬ লাখ টাকা এবং প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার (নেকলেস, কানের দুল, চেইন ও আংটি) নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। স্বর্ণালংকারসহ মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই টাকা প্রবাসী মহিদুল ইসলামের নির্মাণাধীন ভবনের কাজের জন্য রাখা ছিল। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ঘরে গিয়ে মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান এবং শারমিন আক্তার ও তার দুই সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় শারমিন আক্তার ছাড়াও মেহেদী হাসান, আমান উল্লাহসহ আরও কয়েকজনকে সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকি অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাটি পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে প্রবাসী ভাইয়ের অনুমতিক্রমে নজরুল ইসলাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, অভিযুক্তরা নিজেদের দোষ আড়াল করতে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে পারে।