কিশোরগঞ্জে রাতের বিশেষ অভিযান, কিশোর অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের তৎপরতা
মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল
ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে কিশোর অপরাধ ও মাদক সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি কমাতে রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং রাতের আড্ডা কেন্দ্রিক নানা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় প্রতিরোধমূলক এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, শহরের লেকপাড়, অলিগলি, পার্ক ও নির্জন এলাকায় রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও তরুণদের আড্ডা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এসব আড্ডা থেকে অনেক সময় মাদকাসক্তি, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাংয়ের সাথে সম্পৃক্ততার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া তরুণদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে গতকাল রাত ৯টার পর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করে পুলিশ। অভিযানে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে প্রাইভেট পড়া, চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকা ব্যক্তিদের চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি বলে পুলিশ জানায়।
অভিযানে যেসব শিক্ষার্থীকে থানায় নেওয়া হয়, তাদের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হয়। অভিভাবকদের ডেকে এনে মুচলেকার মাধ্যমে সন্তানদের বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। রাত ১২টার পর অভিভাবকের জিম্মায় সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অনেক অভিভাবক এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক বলে মত দেন।
অভিযান চলাকালে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সদর থানায় উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, কিশোর বয়সে সঠিক দিকনির্দেশনা না পেলে তরুণরা সহজেই বিপথে যেতে পারে। তাই পরিবারকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, পুলিশের এই কার্যক্রম শাস্তিমূলক নয়; বরং কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়ানোর অংশ। তরুণদের পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ সদর থানার ওসি আবুল কালাম ভূঁইয়া। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে। স্থানীয়দের মতে, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগই কিশোরদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।