রাড়ীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলামের অনিয়মের অভিযোগ
স্কুলে না এসেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, দ্বৈত বেতন তোলেন............
স্টাফ রিপোর্টার
স্কুলের শিক্ষকদের হাজিরা খাতায় দিনের পর দিন অনুপস্থিত থেকেও গায়েবীভাবে এক সময় অনুপস্থিত দিনগুলোর স্বাক্ষর হয়ে যায়। এমন ঘটনা ঘটেছে খুলনার ফুলতলা উপজেলার রাড়ীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলামের বেলায়। এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাহাড় সমান অভিযোগ থাকলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি কর্তৃপক্ষ। কারণ তিনি একটি রাজনৈতিক দলের মনোনীত নির্বাচিত চেয়ারম্যান।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, রাড়ীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক জহুরুল ইসলাম একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক। পাশাপাশি শুভরাড়া ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে গত ৪ বছর হলো তিনি রাড়ীপাড়া স্কুলে নিয়মিত পাঠদান করছেন না। অথচ শিক্ষকতা পেশার বেতন এবং চেয়ারম্যান হিসেবে বেতন নিচ্ছেন। বিধি মোতাবেক তিনি দ্বৈত বেতন নিতে পারেননা। তারপরেও তিনি নিয়মের তোয়াক্কা না করে দুইটি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন নিয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। এ-তো গেলো বেতনের নেওয়ার অয়িমের চিত্র। চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকার সুবাধে তিনি স্কুলের শিক্ষকতা থেকে বছর চারেক হলো অনেকটা দূরে। জহুরুল ইসলাম তাঁর চাকরির খুটি বাঁচাতে নিজের অনুপস্থিতির কারণে বাহিরের থেকে জনৈক এক ব্যাক্তিকে দিয়ে স্কুলের ধর্মীয় ক্লাসের পাঠদান করাচ্ছেন। এ দিকে মাসের শেষে স্কুলে ২/৪ দিন এসে জহুরুল ইসলাম শিক্ষকদের উপস্থিতি হাজিরা খাতায় পুরো মাসের হাজিরার স্বাক্ষর একাটানা করেন। অনেক সময় জহুরুল ইসলাম স্কুলে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না আসতে পারলে, রাড়ীপাড়া স্কুলের এক শিক্ষক এই জহুরুল মাস্টারের হাজিরার জায়গায় হুবুহু স্বাক্ষর জালিয়াতি করে স্বাক্ষর দিয়ে দেন। এমন অকাট্য তথ্য প্রমাণ এ প্রতিবেদকের এর কাছে এসেছে। একদিকে এই শিক্ষক দ্বৈত বেতন তোলেন, অন্যদিকে স্কুলের শিক্ষকতা ঠিকমত করেন না। সর্বশেষ হাজিরা খাতায় অন্যএক শিক্ষককে দিয়ে জহুরুল তাঁর জাল স্বাক্ষর করান। যা পুরোটাই অনিয়মের চুড়ান্ত স্থল। এমন অপরাধের বিষয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ প্রতিবেদক জানালে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে জানা যায়।
রাড়ীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার বিষয়টি নিয়ে বাদ দেন, আমার ভুল হতে পারে।
রাড়ীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হাই জানান, স্কুলে জহুরুল ইসলাম নিয়মিত আসেন না ,এটি সঠিকতথ্য।
ফুলতলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম জানান, আমি এর আগেও জহুরুল ইসলামকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেছি। তবে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নিবো।
অভয়নগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, শুভরাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম তথ্যমতে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে বেতন নিচ্ছেন।