মাগুরায় নদীর পাড় কেঁটে চলছে মাটি বিক্রি মহোৎসব, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
নিজস্ব প্রতিনিধি
খন্দকার নজরুল ইসলামের মিলন
মাগুরায় দুটি নদীর পাড় কেঁটে মাটি বিক্রির মহোৎসব চলছে,প্রশাসন দেখেও যেন দেখছে না জনসাধারণ মাঝে উঠেছে নানা অভিযোগ, মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদনপুর নবগঙ্গা নদীর পাড়ের মাটি কেঁটে একাধিক ন্যাটা গাড়ি করে বিক্রি করছে দুর্বৃত্তরা।প্রায় দুই মাসেরও ধরে চলছে এ মাটি বিক্রির মহোৎসব। প্রশাসনের নিরবতা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।নবগঙ্গা নদীর বামনপাড়া এলাকায় প্রায় ৫০ ফুট গভীর করে এস্কেভেটর দিয়ে চলছে এ মাটি কাটার কাজ।আর সে মাটি বহন করে বিনোদপুর ভূমি অফিসের সামনে দিয়ে নেওয়া হচ্ছে, কালো চশমার দিয়ে দেখতেই পারছেনা ভূমি অফিসের নায়েব।স্থানীয়রা অভিযোগ উঠেছে,তাদের এই মাটি পরিবহনের কারণে ধূলা বালিতে তাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে,বাড়ীঘর নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি খাবারে ধূলা বালি পড়ে খাবার যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি ধূলায় স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, অনেকেই শ্বাসকষ্ট,এ্যাজমা,হাঁপানিতে ভুগছে স্থানীয়রা।তাছাড়া ন্যাটা গাড়িগুলো রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে চলাচলের কারণে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলের ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে,ছোট্ট বাচ্চাদের রয়েছে প্রাণ নাসের সম্ভাবনা,রাস্তায় মাটি পড়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে,আর বৃষ্টি হলে রাস্তাঘাট পিছলে হয়ে ধরতে পারে নানা দুর্ঘটনা।অপরদিকে গভীর গর্ত করে মাটি কেঁটে নেওয়ার কারণে আমাদের ফসলী জমি নদীতে চলে যাওয়ার পাশাপাশি বর্ষার সময় বাড়ীঘর,রাস্তা-ঘাট নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।এলাকাবাসী আরো জানান বিষয়টি মহম্মদপুর উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে এ্যাসিল্যান্ড স্যার এসে তাত্ক্ষণিকভাবে উঠিয়ে দিয়ে চলে গেলেও কিছুক্ষন পরই আবার শুরু হয়ে যায় এ মহোৎসব।এই দুর্বৃত্তদের কাছে আত্মসমর্পণ করে অসহায় ভাবে তাদের এই কষ্ট ও সংশয় নিয়ে দিন পার করছে এলাকায় মানুষগুলো। ডিসলাইনের কাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক প্রশ্ন করে বলেন,আমরা এই অত্যাচার থেকে কি মুক্তি পাবো না?আপনারা আমাদের জন্য কিছু করেন,আমরা কিছু বলতে গেলে আমাদের উপর অত্যাচার নেমে আসবে,অনেকে গোপনে মহম্মদপুর উপজেলা প্রশাসনকে জানালেও তিনারা এসে ঘুরে চলে যান,কিন্তু তাতে মাটিকাটা বন্ধ হয় না,আমরা এর থেকে পরিত্রাণ চাই,আমাদের জমি ও বাড়িঘর যাতে নদীতে চলে না যায়,আপনারা সে ব্যবস্থা করে দিয়েন।একই ভাবে মাগুরা সদরের আলোকদিয়ার বাগবাড়িয়ায় ভিআইপি ব্রিকস এর পিছনে চলছে নদীর পাড় কেঁটে মাটি নেওয়ার প্রতিযোগিতা চললেও প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই,মাটি কেঁটে নেওয়া লোকগুলো একটু গর্ভের সাথে বলেন আমাদের এখানে প্রশাসনের কোনো লোক আসেনা।বিনোদপুরের নাড়িখালী থেকে নারায়নপুর পর্যন্ত সরকারি ভাবে খনন করে রেখে দেওয়া খালের পাড়ের মাটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্বৃত্তরা কেঁটে নিয়ে গেলেও প্রশাসন চোঁখে কালো চশমা,কানে তুলা দিয়ে বসে থাকার অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী।এবিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।এছাড়া জেলা জুড়ে বিভিন্ন স্থানে শ্রীপুর,মহম্মদপুর,শলিখাতে ফসলী জমির উপরের মাটি (টপ সয়েল) কেঁটে ভাঁটা গুলোতে দেওয়া হলেও প্রশাসনের নিরবতা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বিনোদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব অপূর্ব কুমার বলেন,আমরা ভাই ছোট চাকরী করি,বড় স্যারেরা জোরালো পদক্ষেপ না নিলে আমাদের কি করার আছে,এ্যাসিল্যান্ড স্যারও এখানে(বামনপাড়া) এসেছেন।এবিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা (এ্যাসিল্যান্ড) বলেন,আমি ঢাকাতে আছি বিষয়টি আপনারা ইউএনও স্যারকে বলেন।এবিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,বিষয়টি আমার জানা ছিলো না,আমি মাটি কাঁটা বন্ধের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।