জামিনেও মিলল না মুক্তি! জেলগেটেই ফের আটক ছাত্রলীগ নেতা আজিজুল শিকদার
স্টাফ রিপোর্টার বাংলাদেশ
একটি রাষ্ট্র কতটা নির্মম হলে কারাগারের অন্ধকারে বন্দি এক সন্তানের কাঁধে একসঙ্গে মায়ের ও দাদির মৃত্যুর শোক চাপিয়ে দিয়েও থামতে পারে না নিপীড়নের চাকা—তারই আরেক বেদনাদায়ক উদাহরণ মাগুরার ছাত্রলীগ নেতা আজিজুল শিকদার।
মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আজিজুল শিকদার দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি। পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় তাকে বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। কারাগারে থাকা অবস্থাতেই হারিয়েছেন নিজের মা ও দাদিকে। শেষবারের মতো প্রিয়জনদের মুখটিও দেখতে পারেননি তিনি। তবুও যেন গলেনি ক্ষমতার বলয়ের মানুষের মন, জাগেনি মানবতা কিংবা ন্যূনতম সহানুভূতি।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর আইনি লড়াই শেষে আদালত থেকে জামিন পান আজিজুল। পরিবার ও স্বজনদের চোখে তখন ছিল স্বস্তির অশ্রু। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি কয়েক মুহূর্তও। অভিযোগ উঠেছে, কারাগার থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবারও তাকে আটক করেছে প্রশাসন।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মাঝেও তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—আজিজুলের অপরাধ কী? দেশে যখন চুরি, ডাকাতি, মাদক, সন্ত্রাস আর কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ, তখন প্রশাসনের এত ব্যস্ততা কেন রাজনৈতিক কর্মীদের ঘিরে?
সমালোচকদের ভাষ্য, এটি শুধু একজন আজিজুলের গল্প নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। জামিনের পর জেলগেট থেকেই পুনরায় আটক—এ যেন আইনের শাসনের চেয়ে ক্ষমতার প্রদর্শনই বড় হয়ে উঠেছে।
মানুষ বলছে, জুলুমের ইতিহাস কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অন্যায়ের দেয়াল যত শক্তই হোক, একদিন তা ভেঙে পড়ে। আজ যারা ক্ষমতার দম্ভে নিরীহ মানুষকে নিপীড়ন করছে, সময়ই একদিন তাদের বিচার করবে।
বাংলাদেশের এই অন্ধকার সময়ও একদিন শেষ হবে—এই বিশ্বাস নিয়েই অপেক্ষা করছে মানুষ।