বিপুল চন্দ ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
জমি নিয়ে বিরোধে পিটিয়ে হত্যা
ঈদের আগের দিন বোয়ালমারীতে জমি নিয়ে বিরোধে ফিরোজা বেগমকে (৭১) পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বনচাকী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফিরোজা বেগম ওই গ্রামের ওজেদ মোল্যার মেয়ে ও মৃত মুক্তার মোল্লার স্ত্রী।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজা বেগমের সঙ্গে বাবার সম্পত্তি নিয়ে পাশের রামচন্দ্রপুর গ্রামের টুলু মিয়া ও তার পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলার পর রায় ফিরোজা বেগমের পক্ষে হয়। তবে আদালতের রায় অমান্য করে টুলু মিয়ারা জমি দখল করে রেখেছিলেন। ওই জমিতে গত বুধবার ফিরোজা বেগম শৌচাগার নির্মাণ করতে গেলে টুলু মিয়া (৪৫), তার ভাই বাচ্চু মিয়া (৫৫), রসুল মিয়া (৭৫) ও বাচ্চু মিয়ার ছেলে বাপ্পি মিয়া (২৭) তাকে মারধর করেন। কিলঘুষি ও লাথিতে আহত হলে ফিরোজাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এই ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক
এক সপ্তাহ আগে ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগ মোল্যার বিরুদ্ধে ঈদ উপলক্ষে অসহায় ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণ করা চাল আত্মসাতের অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন আকরাম শেখ নামের এক যুবক। এই ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই যুবকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই চন্দন মোল্যা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে প্রায় দুই ঘণ্টা। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভাঙ্গা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় সালথায় বসতঘরের ওপর গাছ পড়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের পুরুরা সাধুর পাড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র বলেছে, ঝড়ে ওই গ্রামের মুন্নু মোল্যার একটি বড় গাছ তুহিন মোল্যার ঘরের ওপর পড়ে। পরে মুন্নু মোল্যা নিজ খরচে ঘরটি মেরামত করে দিলেও বৃষ্টির পানি পড়ে তুহিন মোল্যার সংরক্ষিত পেঁয়াজ ভিজে যায়। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সালথা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ঈদের দিন (বৃহস্পতিবার) কোরবানির মাংস বণ্টনের জায়গা নির্ধারণ নিয়ে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হয়।