
হোসেনপুরে অননুমোদিত বরফ ও আইসক্রিম কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত, জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান সিলগালা
মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল
ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার নতুনবাজার এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অননুমোদিতভাবে পরিচালিত দুইটি বরফ ও আইসক্রিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনার দায়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার লক্ষ্যে শনিবার (৬ জুন) নতুনবাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠান দুটিতে উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করে ভ্রাম্যমাণ আদালত নানা ধরনের অনিয়মের সত্যতা পায়।
পরিদর্শনে দেখা যায়, অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন করা হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে না। এছাড়া খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক উপাদান ও অন্যান্য সামগ্রী পাওয়া যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। পরে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।
অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবসা পরিচালনার বৈধ অনুমোদন, লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র চাওয়া হলে তারা তা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন। ফলে প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন হোসেনপুর উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ। তিনি বলেন, “খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম কিংবা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিত তদারকি করবে।”
তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটি কোনো অবস্থাতেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। নির্দেশনা অমান্য করলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনস্বার্থে পরিচালিত এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সচেতন মহল মনে করছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত থাকলে খাদ্যপণ্যে ভেজাল ও অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে।