1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

নদীতে ভয়ঙ্কর “আইপিএস প্রযুক্তির” ব্যাবহার, বিলুপ্তির পথে দেশী মাছের সকল প্রজাতি

মাহমুূদ আল-হাছান, বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ১৯ সময়

নদীতে ভয়ঙ্কর “আইপিএস প্রযুক্তির” ব্যাবহার, বিলুপ্তির পথে দেশী মাছের সকল প্রজাতি

 

মাহমুূদ আল-হাছান, বিশেষ প্রতিনিধি

০৯ জুন, মঙ্গলবার

 

দেশের বিভিন্ন ছোটো-বড় নদীতে অসাধু জেলেরা ‘ইলেক্ট্রোফিশিং’ বা ভয়ঙ্কর আইপিএস প্রযুক্তি ব্যাবহার করে অবাধে দেশীয় মাছের বংশ ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিশেষ করে নীলফামারী জেলার জলঢাকা ও ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন নদীতে অসাধু চক্র এই প্রক্রিয়ায় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ নির্বংশ করার কাজে লিপ্ত আছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, গভীর রাতে ছোটো ছোটো নৌকায় আইপিএস বেঁধে নদীর পানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত এই বিদ্যুতে প্রায় ৫ থেকে ৭ মিটার এলাকার পানি বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। এর ফলে ওই এলাকায় থাকা ছোটো বড় সব রকমের মাছ এমনকি অন্যান্য পোকামাকড় থাকলেও সেগুলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হার্ট আ্যাটাক করে এবং মারা যায়। সাধারনতঃ এলাকার লোকজন ঘুমিয়ে পড়ার পরে এই নৌকাগুলো নদীতে নামানো হয় এবং সারারাত মাছ ধরে ভোর রাতে তারা ফিরে যায়।

 

এভাবে দেশীয় প্রজাতীর মাছ পোনা সহ মেরে ফেলা হচ্ছে এবং এজন্যে দেশের বাজারগুলোতে দেশী মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও নদীতে আর তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনিতেই নাব্যতা সঙ্কটে ভুগছে দেশের অধিকাংশ নদনদী। পানির অভাবে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তার উপর যেটুকু মাছ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে সেগুলোও বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না, পোনা অবস্থাতেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের সাধারন দরীদ্র শ্রেনীর মানুষ এবং নদী তীরবর্তী লোকজনের পুষ্টি চাহিদা পুরনের আর কোনো উপায় থাকছে না।

 

ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের সাত কাপাটি এলাকার বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি একটু বৃদ্ধি পেলেই এই চক্রটি তৎপর হয়ে ওঠে। প্রায় প্রতি রাতেই তারা তিস্তা এবং বুড়ি তিস্তা নদীতে আইপিএস দিয়ে মাছ ধরে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দু/এক বছরের মধ্যে নদীতে আর কোনো দেশী মাছ খুঁজে পাওয়া যাবে না। মা এবং পোনা মাছ সহ সবজাতীয় মাছ যেভাবে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হচ্ছে তা খুবই উদ্বেগজনক।

 

গোলমুন্ডা ইউনিয়নের বুড়ি তিস্তা নদী তরের বাসিন্দা মন্টু মিয়া বলেন, ২/১ দিন পরপর আইপিএস দিয়ে মাছ ধরার লোকজন আমার বাড়ীর পাশ দিয়ে যাতায়াত করে এবং আইপিএস দিয়ে নদীতে মাছ ধরে। তারা খুবই ধূর্ত এবং সংঘবদ্ধ। দুই চারজন মিলে তাদের প্রতিহত করা সম্ভব নয়। তাছাড়া কয়টা দলকে প্রতিহত করবেন! নিত্য নতুন দল এই অবৈধ কাজে জড়িত আছে। শুধু তিস্তা কিংবা বুড়ি তিস্তা নদীতেই নয়, ধুম নদির ছোটো নদিতেও এভাবে মাছ মেরে ফেলা হচ্ছে।

 

সাধারন মানুষের দাবি, নৌ-পুলিশ এবং সাধারন পুলিশ সহ জনগনের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে এই ভয়ঙ্কর ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া বন্ধ করা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা উচিত। নাহলে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য ভয়াবহ সঙ্কটে পড়বে এবং জীব বৈচিত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 TV Site
Design By BDit.com.bd