
দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়কের দুর্ভোগে সিংহেশ্বরের বাসিন্দারা, বন্ধ দুই মাদ্রাসার কার্যক্রম
ফয়জুর রহমান (ময়মনসিংহ) ফুলপুর প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৪ নং সিংহেশ্বর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সঞ্চুর পূর্বপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়ক স্থানীয় মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজী আবেদ আলীর বাড়ি থেকে আব্দুল হেকিমের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমল থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি উন্নয়নের আওতায় আসেনি। বছরের অধিকাংশ সময় কাদা ও গর্তে ভরা থাকায় রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির পাশে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও একটি মহিলা মাদ্রাসা রয়েছে। কিন্তু ভেঙে পড়া যোগাযোগব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়মিত যাতায়াত ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে যোগাযোগ সংকটের কারণে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
সঞ্চুর পূর্বপাড়ার বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে সড়কটিতে হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য আনা–নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানিয়েও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
ফুলপুর উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম আজিজ বলেন, “আমাদের এই ইউনিয়নে বিগত সরকারের আমলেও উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, সরকার পরিবর্তনের পর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নকাজ হলেও সিংহেশ্বর ইউনিয়ন এখনো উন্নয়নবঞ্চিত। স্থানীয় জনগণ বর্তমান সরকারের আমলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম সীমার কাছে একাধিকবার আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত পাকা করা অথবা অন্তত জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে সড়কটি সংস্কার করা হলে শুধু সঞ্চুর পূর্বপাড়াই নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষও উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি ফিরে আসবে।