1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক সংখ্যালঘু অধিকার দিবস এবং মঞ্চের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে প্রতিবাদ সভা ও ডেপুটেশন।

সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২ সময়

আন্তর্জাতিক সংখ্যালঘু অধিকার দিবস এবং মঞ্চের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে প্রতিবাদ সভা ও ডেপুটেশন।

 

আজ ১৮ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার, ঠিক দুপুর বারোটায় , রানী রাসমণি রোডের সংযোগস্থলে, রাজ্য সভাপতি ওয়ায়েজুল হকের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সংখ্যালঘু অধিকার দিবস এবং মঞ্চের প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হল এবং এই উপলক্ষে ধর্মতলা চলোর ডাক ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় বারো দফা দাবী নিয়ে।

 

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী, সুবক্তা, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছের মানুষ স্নেহাশিস চক্রবর্তী, উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি ওয়ায়েজুল হক, ফাউন্ডার তানভীর আহমেদ, মেহেবুল হাসান , জিয়াবুল রহমান , চার্চের বিশপ শ্রীকান্ত দাস ও রোহিত সাহা সহ বিশিষ্টজনেরা।

 

সভার সূচনা হয়, তানভীর আহমেদের একটি ছড়া ও মেহেবুল হাসানের গজল গেয়ে। এরপর মঞ্চে উপস্থিত তানভীর আহমেদকে সাল পরিয়ে এবং পুষ্পস্তবক দিয়ে সম্মানিত করেন, সাথে সাথে পরিবহন মন্ত্রী চক্রবর্তী কেউ একইভাবে সম্মানীত করা হয়। এই বছর এই মঞ্চের ১৪তম বর্ষ অনুষ্ঠিত হলো,

 

মঞ্চে একে একে অতিথিরা গর্জে উঠেন ইলেকশন কমিশনার মনোজ আগরওয়াল এর বিরুদ্ধে, তাহারা সরাসরি বলে ওঠেন ইলেকশন কমিশনার হচ্ছে বিজেপির দালাল ও এজেন্ট। আগুন নিয়ে খেলা করছে, তাই আমরা জানিয়ে দিতে চাই, এখনো সময় আছে সাবধান হন। আপনি সংখ্যালঘুদের নিয়ে যা খুশি করবেন না।

 

যেভাবে ধর্ম ও রাজনীতি মিলে মিশে এক করে ফেলছে তার প্রতিবাদ জানাই, আমরা চাই ,ধর্ম ধর্মের জায়গায় থাক, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাক, রাজনীতি হচ্ছে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা, মানুষের অধিকারকে আদায় করা,

 

আজ রানী রাসমণি রোডে , বিভিন্ন জেলার সংখ্যালঘু সংগঠনটিকে কয়েক হাজার মানুষ মঞ্চের সামনে উপস্থিত হন, এবং মাদল বাজিনার সাথে সাথে মঞ্চ সুন্দরময় হয়ে ওঠে।

আজকের মূল উদ্দেশ্য হলো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার রক্ষা। ওয়াকফ নিয়ে প্রতিবাদ করা,, মঞ্চ থেকে সরাসরি বলেন ওয়াকফ কারো বাবার সম্পত্তি নয়, আমাদের বাপ ঠাকুরদার জন্মগত সম্পত্তি ও আমাদের জন্মগত অধিকার, আমরা এক বিন্দু ভিটে ছাড়বো না জীবন থাকতে, এই সকল সম্পত্তি কারো দোয়ার দান নয়, তিনি আরো বলেন গীতা পাঠের দিন আমাদের সংখ্যালঘু এক ভাই প্যাটিস ব্যবসায়ীকে বাংলার বুকে মারধর করা হয়েছে, আমরা এরও প্রতিবাদ জানাই।, এমনকি বেছে বেছে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ভোটার কার্ড থেকে বাতিল করা হচ্ছে, আমরা একটিও ভোটার কার্ড বাতিল করতে দেবোনা ,

 

তাহারা মঞ্চ থেকে আরো বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আধার কার্ড কে বাধ্যতামূলক করেছিলেন, কিন্তু ইলেকশন কমিশনার মনোজ আগরওয়াল সেই আধার কার্ডের মান্যতা দেননি।, কি কারনে মান্যতা দেননি তার জবাব আমাদের দিতে হবে, এবং এর বিরুদ্ধে আমাদের দাবিগুলি মানতে হবে, এমনকি ওবিসি নিয়ে যেভাবে ছেলে খেলা করছেন, ঋষিদের একে একে বাদ দেওয়া হচ্ছে, আমরা তারও প্রতিবাদ করছি, এখন শুরু হয়েছে এস আই আর নিয়ে, যেখানে বেছে বেছে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, কিসের কারণে শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বেছে বেছে বাদ দেওয়া হচ্ছে অন্যান্য ধর্মাবলাম্বী মানুষদের বাদ দেওয়া হচ্ছে না এর ও জবাব দিতে হবে এর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ জানাই,

 

বিহারের মন্ত্রী নীতিশ কুমার- বিহারের ডাক্তার পড়ুয়া এক ছাত্রীর, হিজাব খুলে দেন, যেখানে সংবিধানে মহিলাদের হিজাব পড়ার নির্দেশ আছে, হিজাব পড়তে সংবিধান অধিকার দিয়েছে, তাহা সত্ত্বেও কেন ওই ডাক্তারি পড়ুয়া বোনের হিজাব খুলে দেয়া হলো তার জবাব দিতে হবে নীতিশ কুমার কে, একদিকে ইলেকশন কমিশনার বিজেপির দালালি করছে অন্যদিকে নীতিশ কুমার মহিলাদের অসম্মান করছেন।। তাইএই মঞ্চ থেকে আমাদের প্রতিবাদ, এবং আজ আমরা সভার শেষে সবাই মিলে মিছিল করে ইলেকশন কমিশনের কাছে ডেপুটেশন দিতে যাবো, তাহারা আরো বলেন ভারতবর্ষে যেমন একদিনে তৈরি হয়নি, ভারতবর্ষ হিন্দি একটি সম্প্রদায়ের মানুষ নিয়ে তৈরি হয়নি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষদের নিয়েই তৈরি হয়েছে। এটা মাথায় রাখতে হবে , ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ হোক। সংখ্যালঘু মানুষদের ভয় দেখিয়ে ধমকি চমকিয়ে কিছু করতে পারবেন না।

 

সভা শেষে মিছিল যখন তৈরি হয় ইলেকশন কমিশনের দিকে যাওয়ার জন্য, প্রশাসনের অফিসাররা বিভিন্নভাবে বাধা ও ব্যারিকেট দিলেও এবং বোঝানোর চেষ্টা করলেও তারা কোনো রকম কর্ণপাত করেননি, একটার পর একটা ব্যারিকেট ভেঙে মিছিল ডরিনা ক্রসিং দিয়ে এগিয়ে যান এবং মাঝে মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, মিছিল পুনরায় যখন লেনিন মূর্তির কাছে পৌঁছায়, প্রশাসনের অফিসারর আবার আটকে দেন এবং বলেন আমরা আমার আপনাদের নিয়ে যেতে চাই, এবং এরপর আট জনের প্রতিনিধি দল ডেপুটেশন দিতে যান , পুলিশের গাড়িতে ইলেকশন কমিশনে, ততক্ষণ অন্যান্যরা রাস্তা ঘিরে বসে থাকেন। যতক্ষণ না ইলেকশন কমিশন থেকে সঠিক উত্তর না আসে তাহারা বসে থাকবেন বলে জানান।

 

রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 TV Site
Design By BDit.com.bd