1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন

চক্ষু চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের মৃত্যু

মো : জামাল উদ্দিন নিজস্ব প্রতিবেদক ( মিরসরাই, চট্টগ্রাম) 
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৩৩ সময়

চক্ষু চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের মৃত্যু

 

মো : জামাল উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক ( মিরসরাই, চট্টগ্রাম)

 

দেশের স্বনাম ধন্য ও উজ্বল নক্ষত্র, দেশের চক্ষু চিকিৎসা খাতের অবিসংবাদিত পথিকৃৎ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন আর নেই।

 

শনিবার (২৭ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি দুই পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। প্রয়াত এই চিকিৎসক চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপদেষ্টা এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা ট্রাস্টি ছিলেন।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার বাদ এশা চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ রবিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা হয় এবং বাদ জোহর মিরসরাইয়ের কাটাছড়া গ্রামে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন কাজ সম্পন্ন হবে।

 

চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার ৭নং কাটাছরা এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের জন্ম। তিনি ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস এবং ১৯৬৭ সালে লন্ডনের কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস থেকে এফআরসিএস ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে দেশে ফিরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও পরবর্তীতে সম্পূর্ণ স্বাধীনভবে মানবসেবা করার লক্ষ্যে তিনি সরকারি চাকরি ত্যাগ করেন।

 

এরপর ১৯৭৩ সালে তিনি ‘বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি’ গঠন করে দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ চক্ষু শিবিরের সূচনা করেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ১০ লাখেরও বেশি মানুষের চোখের অপারেশন করা হয়। ১৯৭৫ সালে তিনি বিদ্যালয়ভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ চক্ষু সেবা চালু করেন, যার অধীনে এ পর্যন্ত প্রায় ৮ লক্ষ শিক্ষার্থীর চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে।

১৯৮৩ সালে তিনি চট্টগ্রাম পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে চক্ষু চিকিৎসায় এক অনন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। যা বর্তমানে দক্ষিন এশিয়ার অন্যতম একটি চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

 

এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের অধিনে ভ্রাম্যমান অনেক চক্ষু শিবির কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে দেশের চক্ষু চিকিৎসার প্রসারিত করেন। নিজ গ্রামে কাঠাছরা শিশু ও চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তুলে প্রত্যান্তঞ্চলেও চিকিৎসা সেবা দিয়ে গেছেন দীর্ঘ বছর। পাশাপাশি তিনি শিক্ষা খাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নিজ এলাকায় ওয়াহিদুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এই গুনী ব্যাক্তি।

 

তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায় নেমে আসে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে। নিজ গ্রামে মানুষ আজ তাঁর মৃত্যুতে স্তম্ভিত। সকলের জানাজা শরিক হয়ে তাঁর বিদেহী আত্বার মাগফেরাত কামনা করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 TV Site
Design By BDit.com.bd