ঝালকাঠির ৩৩ কোটি টাকার অচল ম্যাটস ভবনে বসতে পারে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ক্লাস
বাদল চন্দ্র ধর, ঝালকাঠি সদর
অব্যবহৃত সরকারি অবকাঠামো কাজে লাগাতে উদ্যোগ, ভবন পরিদর্শনে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার
দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ঝালকাঠির ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ভবনকে শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারের উদ্যোগে ভবনটিতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন অচল থাকা এ প্রতিষ্ঠানটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ঝালকাঠি ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
এ লক্ষ্যে শুক্রবার (২৭ জুন) দুপুরে ম্যাটস ভবন পরিদর্শন করেন ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।
পরিদর্শন শেষে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যেহেতু বর্তমানে ম্যাটস চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তাই জনস্বার্থে এ অবকাঠামোকে কাজে লাগাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস এখানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”
জানা গেছে, ২০১৯ সালে ঝালকাঠি ম্যাটস প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২১ সালে শেষ হয়। ২০২২ সালে ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হলেও এখন পর্যন্ত সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়নি। ফলে আধুনিক একাডেমিক ভবন, ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেল, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনসহ প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো ও বিভিন্ন সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় তা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।