1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন

নির্মাণের দেড় যুগেও চালু হয়নি স্যালাইন কারখানা

ঝিনাইদহ
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ০ সময়

নির্মাণের দেড় যুগেও চালু হয়নি স্যালাইন কারখানা

স্থানীয়ভাবে স্যালাইন উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি সরকারের আমলে নির্মাণ করা হয় ঝিনাইদহ ওরাল স্যালাইন কারখানা। তবে এর দেড় যুগেও চালু হয়নি কারখানাটি। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দেড়যুগ পেরিয়ে গেলেও অব্যবস্থাপনা, দপ্তরগত জটিলতা ও নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতার কারণে কারখানাটি এখন অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয়টি উপজেলায় প্রতিমাসে অন্তত ২০ হাজার পিস খাবার স্যালাইনের চাহিদা রয়েছে।

 

স্থানীয় এই চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্যালাইন কিনতে হয় স্বাস্থ্য বিভাগকে। এতে পরিবহন খরচ বাবদ মোটা অংকের টাকা গুণতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এ জন্য ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্যালাইন কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে কারখানাটিতে গিয়ে দেখা যায়, এর মূল ভবন, গুদাম ও অফিস কক্ষ সব জায়গায় ময়লার স্তূপ।

অধিকাংশ যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় প্রায় নষ্ট হওয়ার পথে। কোথাও কোথাও মরিচা ধরেছে, অনেক যন্ত্র আবার অচল হয়ে পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কারখানার অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ইতিমধ্যে অকেজো হয়ে পড়েছে। দুইতলা ভবনের নিচতলার দুটি কক্ষে বর্তমানে ইপিআই সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ একটি প্রকল্পের আওতায় ঝিনাইদহ শহরের মদনমোহন পাড়ার পুরনো হাসপাতাল এলাকায় স্যালাইন কারখানাটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন বিএনপিদলীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য প্রয়াত মসিউর রহমান। ২০০৮ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে ওই বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এরপর স্যালাইন কারখানাটির ভাগ্যে নেমে আসে অন্ধকার।

 

 

বিএনপির আমলে তৈরি এমন প্রচারণা চালিয়ে কারখানাটি চালুর ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার। ফলে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সাধারণ মানুষের কোনো সুফল মেলেনি এখান থেকে।

অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি শাসনামলে স্যালাইন কারখানাটি নির্মিত হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দীর্ঘদিনেও কারখানাটি চালু করতে দেননি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ফলে এখন যত দিন যাচ্ছে, ততই ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

 

শহরের চাকলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রউফ বলেন, ‘স্যালাইন কারখানাটি চালু হলে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতো। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে স্যালাইনের ঘাটতি কমে যেত। তবে বছরের পর বছর ধরে চালু না করে ফেলে রাখার জন্য আমাদের মতো অনেক মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে।’

 

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মানবাধিকার কর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘এই স্যালাইন কারখানাটি চালু হলে এই জেলার সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হতো। জেলার হাসপাতাগুলোর খরচ অনেক কমে যেতো। সেই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে স্যালাইন বিক্রি করার সুযোগ সৃষ্টি হতো। কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কাণে দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি চালু করেনি আওয়ামী লীগ সরকার। এখন দেশে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। তাই আমাদের দাবি, কারখানাটি দ্রুত চালু করা হোক।’

 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে স্যালাইন কারখানাটি চালু করা হয়নি। আওয়ামী লীগের আমলে কারখানাটি চালুর কোনো উদ্যোগ নেয়নি তৎকালীন সরকার। বিএনপির প্রয়াত সংসদ সদস্য মসিউর রহমান এই স্যালইন কারখানাটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ফলে এ নিয়ে রাজনৈতিক নোংরা খেলা করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বর্তমান সরকারের উচিত হবে কারখানাটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার। তাহলে ঝিনাইদহ ও এর পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষ অনেক উপকৃত হবে।’

 

এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্যালইন কারখানাটি চালু না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি। কারখানাটি চালুর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। তবে তারা বরাদ্দের ঘাটতির কথা বলেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত কারখানাটি চালু করা সম্ভব হবে না। আশা করছি দেশে নির্বাচিত সরকার এসে শিগগিরই স্যালাইন কারখানাটি চালু করবে।’

সূত্র কালের কণ্ঠ

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 TV Site
Design By BDit.com.bd