বঙ্গভবনের পরবর্তী চাবিকাঠি ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ: ড. ইউনূস কি হতে যাচ্ছেন আগামী রাষ্ট্রপতি?
প্রকাশক ও প্রধান বার্তা সম্পাদক- জাহারুল ইসলাম জীবন এর লেখা ও সম্পাদনায় বিশেষ নিউজ প্রতিবেদন।
বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষণের দৃষ্টিতে দেখা:- রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ বঙ্গভবনের ক্ষমতার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী এই দায়িত্বটি সাময়িক এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন-কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, আপাতদৃষ্টিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব স্পিকার গ্রহণ করলেও দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্রীয় ও ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসছে।
***➤আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির অগ্নিপরীক্ষা:- বর্তমান প্রেক্ষাপটে্ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক চাপ প্রবলভাবে জড়িত। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর সম্পর্কের ভারসাম্যে এক কঠিন সময় পার করছে দেশ। চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রভাব বজায় রাখা সরকারের জন্য অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
এই সমীকরণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশ্বব্যাপী সুদৃঢ় ভাবমূর্তি, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে তাঁর নিবিড় কূটনৈতিক পরিচিতি এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা দেশের জন্য এক বিরাট শক্তি হতে পারে। বৈশ্বিক চাপ মোকাবেলা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অবস্থান সুসংহত করতে তাঁর বিকল্প খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
***➤বিচারিক প্রক্রিয়া, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বস্ত অভিভাবকত্ব:- পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে পাচারকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ পুনরুদ্ধারসহ রাষ্ট্রের বিচারিক ও প্রশাসনিক নানা জটিল চ্যালেঞ্জ সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার ও দেশের জন্য একজন নিরাপদ, আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী এবং বিতর্কহীন অভিভাবকের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করছেন বিশ্লেষকরা।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রক্ষায় এবং সরকারের নীতিগত অবস্থান শক্তিশালী করতে ড. ইউনূসের ওপর আস্থা রাখা অন্যতম কৌশলগত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
***➤বিকল্প প্রস্তাবনা ও আন্তর্জাতিক মঞ্চ:- যদি আন্তর্জাতিক জটিলতা বা ব্যক্তিগত কারণে ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে বিকল্প হিসেবে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে, ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব না নিলেও তাঁর আন্তর্জাতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ বিশ্বমঞ্চে-যেমন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদের মতো শীর্ষ পদে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে তুলে ধরার চিন্তাভাবনাও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
***➤সময়ের দাবি ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত:- বর্তমান সরকারের সামনে বড় বড় ভূ-রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিপক্ষ বিদ্যমান। ভুল পরামর্শ বা স্বার্থান্বেষী কোনো গোষ্ঠীর ফাঁদে না পড়ে একটি পরিপক্ব ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকে সঠিক উপায়ে রাষ্ট্রীয় কল্যাণে কাজে লাগানোই এখনকার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হতে পারে।
বঙ্গভবনের পরবর্তী অধ্যায় কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।