1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন

মাওলানা সাইফুল ইসলামের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধ

ফয়জুর রহমান, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩০ সময়

মাওলানা সাইফুল ইসলামের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধ ,

ফয়জুর রহমান, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

মাওলানা সাইফুল ইসলামের মুক্তি, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন উম্মুল কুরা মহিলা মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরা।

সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ এ মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, গত ২ জুলাই ২০২৬ বিকেল প্রায় ৫টার দিকে একদল ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে উম্মুল কুরা মহিলা মাদরাসায় প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাওলানা সাইফুল ইসলামের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। পরদিন ৩ জুলাই দুপুরে তাঁকে কেন্দ্র করে কোতোয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

বক্তারা বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যাতে তাঁর ব্যক্তিগত সুনাম, মাদরাসার দীর্ঘদিনের অর্জিত ভাবমূর্তি এবং শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।

তাঁদের ভাষ্য, মাওলানা সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উম্মুল কুরা মহিলা মাদরাসা পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর নেতৃত্বে অসংখ্য শিক্ষার্থী দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করেছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় সুনাম অর্জন করেছে। তাই তাঁর সততা, আমানতদারিতা ও নেতৃত্বের প্রতি তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সম্মান রাখেন। তাঁরা কোনো তদন্তকে প্রভাবিত করতে চান না। তবে প্রত্যেক নাগরিকের মতো একজন আলেম ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের পরিচালকেরও ন্যায্য বিচার ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

মাওলানা ইয়াসীন আরাফাত আনন্দপুরীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইমাম নয়াপাড়া নূর জামে মসজিদের মুফতি শহীদুল্লাহ, মিলার্স অটো জামে মসজিদের ইমাম মুফতি এনামুল হাসান, জামিয়া নূর হোসেন মহিলা মাদরাসার পরিচালক মুফতি নুরুল আলম সিদ্দিকী, মদীনাতুল কুরআন মাদরাসার পরিচালক হাফেজ সানাউল্লাহ, নূরে হেরা মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) মহিলা মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মোবারক, জুটমিল উচ্চবিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মোস্তফা কামাল, উম্মুল কুরা মহিলা মাদরাসার শিক্ষা সচিব মাওলানা মাসউদুল হক শিবলী, মাওলানা তাসনীমসহ অন্যরা।

বক্তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মাওলানা সাইফুল ইসলামের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। তাঁরা বলেন, তাঁর মুক্তি বিলম্বিত হওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো অবহেলার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই নিতে হবে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন শরহে বেকায়া বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিনা আক্তার। তিনি দাবি করেন, তাঁদের শিক্ষক নির্দোষ এবং তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর শিক্ষকের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে মারধর করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদরাসায় ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

হেদায়া বিভাগের শিক্ষার্থী মাস্তুরা রাষ্ট্রের প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তাঁদের শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

উম্মুল কুরা মহিলা মাদরাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষিকা আলেমা নাজমিন আবেগঘন বক্তব্যে মাওলানা সাইফুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—

১. ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

২. তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়া গেলে মাওলানা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে তাঁকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে।

৩. ২ জুলাই মাদরাসায় সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. উম্মুল কুরা মহিলা মাদরাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

বক্তারা বলেন, তাঁদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে আয়োজিত। কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ সৃষ্টি নয়, বরং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং একজন শিক্ষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য।

তাঁরা দেশের গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ এবং সত্য উদ্ঘাটনে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

সবশেষে মুফতি শহীদুল্লাহর দোয়ার মাধ্যমে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 TV Site
Design By BDit.com.bd