1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে তথ্য চাইতেই আলামিনের সক্রিয়তা , উঠছে নানা প্রশ্ন

অমিত তালুকদার, সুনামগঞ্জ
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৩১ সময়

সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে তথ্য চাইতেই আলামিনের সক্রিয়তা
, উঠছে নানা প্রশ্ন

অমিত তালুকদার, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়ম ও সেবা কার্যক্রম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তথ্য চাওয়ার পরপরই এক ব্যক্তির অফিসকক্ষে প্রবেশ, সাংবাদিকদের পরিচয় জানতে চাওয়া এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফোনে সেই তথ্য অন্যত্র জানানোকে কেন্দ্র করে অফিসটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকরা সুনামগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গেলে অফিসপ্রধান সাব-রেজিস্ট্রার মো. মনজুরুল ইসলাম প্রথমেই জানতে চান, “আপনাদের কোনো অ্যাসাইনমেন্ট আছে?” জবাবে সাংবাদিকরা জানান, মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতিটি অনুসন্ধানের জন্য আলাদা অ্যাসাইনমেন্ট বহন করা বাধ্যতামূলক নয়।

এরপর সাংবাদিকরা অফিসে কর্মরত দলিল লেখক (ডিড রাইটার) ও লাইসেন্সধারীদের তালিকা চাইলে সাব-রেজিস্ট্রার তা দিতে সম্মতি জানান এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের আশ্বাস দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর আর্জেন্টিনার জার্সি পরা এক ব্যক্তি অফিসকক্ষে প্রবেশ করে সাব-রেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতেই সাংবাদিকদের পরিচয় জানতে চান। পরিচয় জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে অন্য একজনকে বিষয়টি জানান। এ সময় তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, তিনি অফিসের “ইন্টারনাল স্টাফ” এবং তাঁর নাম আলামিন।

সাংবাদিকদের দাবি, সরকারি অফিসে তথ্য সংগ্রহের সময় এ ধরনের আচরণ তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করেছে। পরে সাব-রেজিস্ট্রার আলামিনকে উদ্দেশ করে বলেন, “কাউকে কল দিতে হবে না, তুমি যাও।”

সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ফোনকলের কিছু সময়ের মধ্যেই আরেকজন সাংবাদিক অফিসে উপস্থিত হন। ঘটনাপ্রবাহে তাঁদের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়, তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বাইরে জানানো হচ্ছিল কেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচিত। এছাড়া কিছু সাংবাদিকের সঙ্গে অফিসের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং আর্থিক সুবিধা পাওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে এই প্রতিবেদনের হাতে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আলোচনার একপর্যায়ে সাব-রেজিস্ট্রার সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণ না করার অনুরোধ জানান এবং বলেন, তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার প্রয়োজন নেই; প্রয়োজনীয় তথ্য সাধারণ আবেদনেই দেওয়া হবে। তিনি সাংবাদিকদের একটি ছোট কাগজে প্রয়োজনীয় তথ্যের তালিকা লিখে দিতে বলেন এবং তা সরবরাহের আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার মো. মনজুরুল বলেন, অফিসে ঘটে যাওয়া ওই আচরণের বিষয়ে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, একটি সরকারি অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিক আলোচনার সময় অন্য একজনের প্রবেশ করে তাঁদের পরিচয় সংগ্রহ এবং তাৎক্ষণিকভাবে বাইরে যোগাযোগ করা কতটা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? সরকারি দপ্তরে তথ্যপ্রত্যাশীদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও নির্বিঘ্নে তথ্য সংগ্রহের পরিবেশ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 TV Site
Design By BDit.com.bd