1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন

তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে শতকোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ৭ সময়

তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে শতকোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ বর্তমান এমডি আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক কোম্পানি সেক্রেটারি, বর্তমান ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের এমডি মইনুল আহসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ এবং কোম্পানিটির সাবেক সিএফও ও বর্তমানে ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ পিএলসি–এর এমডি সিসি মইনুল আহসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, ভ্যাট ফাঁকি ও বীমা আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগ তদন্তে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের পক্ষে আসমা নাজনীন এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রের অনুলিপি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)-এর চেয়ারম্যানের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিটিতে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম চালানো হয়েছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, কোম্পানির অনুমোদিত হিসাবের বাইরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি–এর লোকাল অফিস শাখায় একাধিক গোপন ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব হিসাবের মাধ্যমে গত ১২ বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুনর্বীমা কমিশনের অর্থ থেকেও অতিরিক্ত কমিশন দেখিয়ে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কোম্পানির অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে রাখা হলেও সেগুলোর তথ্য বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে গোপন রাখা হয়। পরবর্তীতে এসব আমানত নগদায়নের মাধ্যমে অর্থ বণ্টনের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

ব্যবসা সংগ্রহের নামে অতিরিক্ত কমিশন দেখিয়েও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ বছরে প্রায় ৮১ কোটি টাকা কমিশন পরিশোধ দেখানো হলেও এর একটি অংশ অন্য হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত প্রিমিয়াম আদায়ের তুলনায় কম ভ্যাট পরিশোধ করা হয়েছে। বিষয়টি আড়াল করতে গত ১২ বছরে প্রায় ৩২ কোটি টাকা অবৈধ সুবিধা প্রদানের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া কোম্পানির ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১১ কোটি টাকা তাকাফুল ইসলামী সিকিউরিটিজ লিমিটেড–কে ঋণ হিসেবে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। একটি চেকের প্রাপকের নাম পরিবর্তন করে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে।

২০২৪ সালের আর্থিক বিবরণীতেও অস্বাভাবিক অগ্রিম ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে অফিস ডেকোরেশনের নামে প্রায় ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা, বেতনের বিপরীতে ৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা, মোটরসাইকেল কেনার নামে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং ইনসেনটিভ বোনাস হিসেবে প্রায় ৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা অগ্রিম দেখানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব ব্যয়ের বিপরীতে যথাযথ কাগজপত্র কিংবা বাস্তব কাজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর নয় এবং বীমা আইন, ২০১০–এর বিভিন্ন ধারা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। ফলে কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৪৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩১ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযোগ হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে। তিনি বলেন, “আইডিআরএ তদন্ত করলে আমি জবাব দেব।”

অন্যদিকে আইডিআরএ’র মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি জানান, চেয়ারম্যান না থাকায় কিছু বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে অভিযোগপত্রে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়মগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 TV Site
Design By BDit.com.bd