
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কৃষক পরিবারকে মাদক কারবারী সাঁজানোর চেষ্টার প্রতিবাদ
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কেরশাইল গ্রামের কৃষক পরিবারকে মাদক কারবারী সাঁজানোর আপচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। শনিবার সকালে ভুক্তভোগীর বাড়ীতে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানান তারা।
পরিবারটির দাবী, প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়ীঘর থেকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছিলো। সম্প্রতি তারা স্থানীয় পুলিশকে মাদক সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দিয়ে পরিবারটিকে হয়রানির চেষ্টা করে। যদিও পুলিশ বলছে, চাইলেই কাউকে মাদক দিয়ে হয়রানি করার সুযোগ নেই।
সাংবাদিক সম্মেলনে কার্তিক ঘোষ অভিযোগ করেন, ১৮ জুন মধ্যরাতে পুলিশের একটি দল কার্তিক ঘোষের বাড়ীতে মাদক আছে জানিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। দীর্ঘ দুই ঘন্টা তল্লাসী চালিয়ে কোনো কিছু না পেয়ে ফিরে আসে পুলিশ দল।
কার্তিক ঘোষ মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষ তাদেরকে উচ্ছেদ করতেই পুলিশ দিয়ে এভাবে হয়রানি করছে। তিনি দাবী করেন, জমিজমা বিরোধের সুত্র ধরে ওই পক্ষ প্রায়শ তাদের নানাভাবে হুমকী ধামকী দিয়ে আসছে।
এমন হয়রানির কারণে শংশয়ে রয়েছে পরিবারটি। তারা মনে করছেন, যে কোনো সময় পরিবারটিকে বড় ধরনের বিপদে ফেলতে পারে ষড়যন্ত্রকারীরা।
স্থাণীয়রা বলছেন, কার্তিক ঘোষের পরিবার অত্যন্ত নীরিহ প্রকৃতির। সেই দূর্বলতার সুযোগ নিতেই নানাভাবে পরিবারটিকে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবী করেছেন। একইসাথে পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবীও জানান এলাকার মানুষ।
যদিও জয়নগর ফাঁড়ি পুলিশ জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই তল্লাসি চালিয়ে কিছুই পাওয়া যায়নি। আর বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন জানান, চাইলেই কাউকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। পুলিশ তদন্ত করে সত্যতা পেলেই কেবল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরো জানান, কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করাও অপরাধ। তাই সকল অপরাধিকেই আইনের আওতায় আসতে হবে।
স্থানীয়রা মনে করেন, একটি সাধারণ পরিবারকে ফাঁসিয়ে দেয়ার চেষ্টাকারীদের আইনের আওতায় আনা জরুরী, অন্যথায় অন্যায়ভাবে অপরাধের তকমার শিকার হবেন নিরপরাধিরাও।