
“ঘণ্টাধ্বনি থেকে প্রতিবাদের ধ্বনি—সম্প্রীতির বাংলায় কেন এই বিষবাষ্প?”
অমিত তালুকদার, সুনামগঞ্জ।
বাংলার মাটি বহু শতাব্দী ধরে ধর্ম, বর্ণ আর সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে বুকে ধারণ করে এসেছে। মসজিদের আজান, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি, গির্জার প্রার্থনা আর বৌদ্ধ বিহারের শান্তির বাণী সব মিলিয়েই গড়ে উঠেছে সম্প্রীতির বাংলাদেশ। সেই চিরচেনা সম্প্রীতির আবহে যখন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ ওঠে, তখন প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর।
শ্রীরামচন্দ্রের প্রতিকৃতির অবমাননা এবং গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে শনিবার সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ার পরিণত হয় উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং প্রতিবাদের এক প্রতীকী মঞ্চে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।
ব্যানার-ফেস্টুন হাতে শিশু থেকে প্রবীণ সবার উপস্থিতি যেন একটাই বার্তা বহন করছিল, ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান ও সহনশীলতা রক্ষা করতে হবে সকলকে। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে মুখরিত আলফাত স্কয়ারে বক্তারা বলেন, একটি কুচক্রী মহল বারবার ধর্মীয় সম্প্রীতিতে আঘাত হেনে দেশের শান্ত পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমান কান্তি রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বিমল বনিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, মন্দির ভাঙার হুমকি কিংবা দেব-দেবীর অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তাদের ভাষায়, সম্প্রীতির বাংলাদেশকে অশান্ত করার যে কোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে। কারণ ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার আর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই এ দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বিভিন্ন সনাতনী, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই পারে সম্প্রীতির বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করতে। বিভেদের নয়, ঐক্যের পথেই হোক আগামী দিনের যাত্রা।