
খুনিদের আড়াল করতে নির্দোষদের ফাঁসানো হচ্ছে!”— নবীনগরে হত্যা মামলার বিরুদ্ধে জনতার বিস্ফোরণ, মানববন্ধনে তীব্র ক্ষোভ
‘মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি’
আব্বাস উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আলোচিত রিফাত হত্যা মামলায় নির্দোষ ব্যক্তিদের জড়ানো হয়েছে— এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভমুখর মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। মানববন্ধন থেকে মামলা পুনঃতদন্ত, মিথ্যা আসামিদের অব্যাহতি এবং প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, “প্রকৃত খুনিদের আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে নিরীহ মানুষকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।”
শনিবার (২০ জুন) উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের নুরজাহানপুর এলাকায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশগ্রহণকারীরা ‘মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার কর’, ‘প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার কর’ এবং ‘নির্দোষ মানুষের হয়রানি বন্ধ কর’— এমন নানা স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি বড়বাড়ি এলাকার মোস্তাক আহমেদের ছেলে রিফাত গত ১৪ জুন রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল দাশপাড়া গ্রামের সমীর দাশের বাড়িতে যান। অভিযোগ রয়েছে, রাত সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে তাকে হত্যা করে নরসিংদী জেলার করিমপুর ইউনিয়নের রসুলপুর শুটকিকান্দি জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন চরে মরদেহ ফেলে রাখা হয়।
ঘটনার চারদিন পর, গত ১৮ জুন নিহত রিফাতের স্বজন মুক্তা আক্তার নবীনগর থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, মামলায় নুরজাহানপুর গ্রামের মনেক মিয়া, তার দুই ছেলে সুমন মিয়া ও রোমনা মিয়াসহ কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয়রা বলেন, “যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের পালানোর সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি নির্দোষ পরিবারগুলো চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।”
বক্তারা আরও বলেন, “আমরা কোনো অপরাধীকে রক্ষা করতে চাই না। কিন্তু নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করে বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের দ্রুত অব্যাহতি দিতে হবে।”
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আব্দুল বাতেন, খাদিজা আক্তার, আমেনা বেগম ও মামলার অভিযুক্ত মাসুম মিয়া। উপস্থিত ছিলেন নাছির মিয়া, দেলু মেম্বার, শিপন মেম্বার, সোহাব আলী সরদারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ তদন্ত না করে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনে, তাহলে এলাকাবাসী আরও বৃহত্তর আন্দোলন ও কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।”
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের প্রস্তুতির কথাও জানান। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে এবং নির্দোষ মানুষ হয়রানির হাত থেকে মুক্তি পাবে।
উল্লেখ্য, রিফাত হত্যা মামলাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি এখন স্থানীয় জনমতের অন্যতম প্রধান দাবিতে পরিণত হয়েছে।