মাগুরা ল কলেজ থেকে এই প্রথম ছাত্র হাইকোর্টের এ্যাডভোকেট এনরলমেন্ট তালিকা ভুক্ত হলো
নিজস্ব প্রতিনিধি
মাগুরা ল কলেজের ছাত্র এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মন্ডল মহামান্য হাইকোর্টের এ্যাডভোকেট এনরলমেন্ট তালিকা ভুক্ত হওয়ায় মাগুরা ল কলেজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার ২৭ জুন সন্ধ্যা ৭ টার সময় মাগুরা এজি একাডেমি স্কুলে এই ফুলেল সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, মাগুরা ল কলেজ অধ্যক্ষ বিধান কৃষ্ণ বিশ্বাস।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র এ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মজিদ (২), মাগুরা ল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও এ্যাডভোকেট অজয় কুমার বিশ্বাস (জুরিস প্রুডেন্স ও পেনাল কোড, শিক্ষক), সহকারী অধ্যাপক ও এ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান লিপন (শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক আইন, শিক্ষক), সহকারী অধ্যাপক ও এ্যাডভোকেট মোঃ আনোয়ার জাহিদ (সাংবিধানিক আইন এবং শিল্ল ও বাণিজ্যিক আইন, শিক্ষক), মাগুরা ল কলেজের বিদ্যুৎসাহী সদস্য অধ্যাপক খান মশিউল আজম অমরেশ বসু ডিগ্রী কলেজ আলোকদিয়া, এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, এ্যাডভোকেট এনামুল হক, মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও মাগুরা ল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সাংবাদিক মোঃ ফারুক আহমেদ এবং মাগুরা ল কলেজের প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র-ছাত্রী বৃন্দগণ।
এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মন্ডলের গ্রামের বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুড়িয়া গ্রামে তার পিতার নাম হাজী মোঃ হাবিবুর রহমান। তার বড় ভাই মাগুরা জজ কোর্টের এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন। এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মন্ডল মাগুরা ল কলেজ থেকে ২০১২ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন, এরপর মাগুরা জজ কোর্টে বার কাউন্সিল পাশ করে ২০১৫ সালে লানার্ড এ্যাডভোকেট হন এবং ২০২৬ সালে হাইকোর্টে এ্যাডভোকেট তালিভুক্ত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মাগুরা ল কলেজের ছাত্রী ও শিক্ষিকা মৌটুসী খাতুন ফুলের তোড়া দিয়ে এ্যাডভোকেট মোঃ মিজানুর রহমান মন্ডলকে সংবর্ধনা প্রদান করেন। এরপর মাগুরা ল কলেজের অধ্যক্ষ বিধান কৃষ্ণ বিশ্বাস মাগুরা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল মজিদকে ফুলের তোড়া উপহার দেন।
সিনিয়র এ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মজিদ তার বক্তব্য বলেন, আসলে এই আইন পেশা অত্যন্ত কঠিন পেশা, তবে আইন পেশায় আসতে হলে প্রথম কাজ হলো পড়াশোনা করা। আগে আইনটাকে জানতে হবে তারপর আদালতে উপস্থাপন করতে হয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে আইন পেশায় আসা যায় না। যারা ছাত্র আছো তাদের উদ্দেশ্য বলতে চাই যেটুকু পড়বে মনোযোগ সহকারে পড়বে ও বুজার চেষ্টা করবে ভবিষ্যৎে প্রাকটিস লাইফে অত্যন্ত উপকার হয়ে উঠবে। আমি পড়াশোনা ইউনিভার্সিটি করেছি আমাদের সময় ইংরেজি ভার্সনে পড়তে হতো এরপর বাংলায় আসলো। এই পেশাটা মহা সমুদ্রের ভিতরে পড়ে থাকতে হয় এর কোন শেষ নাই, আর প্রাকটিস লাইফে এসে শুধু টাকার প্রতি মোহ আনতে হবে না, পেশার প্রতি মোহ আনতে হবে তাহলে আপনারা সবাই অন্তত সুনাম অর্জন করতে পারবেন। আমি জীবনে পয়সার পিছনে দৌড়ায়নি আমি আইনের পিছনে দৌড়িয়েছি তবে সফলতা বেশি অর্জন করেছি ব্যর্থতা কম হয়েছে। এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মন্ডল আমার সেরেস্তায় আমার সাথে কিছুটা শিখেছে আর মাগুরা ল কলেজ থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজে লাগাচ্ছে আর এই প্রতিষ্ঠান থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করে ঢাকা হাইকোর্টে আইনজীবী তালিকাভুক্তি হয়েছে। তিনি মিজান মন্ডল কে সততা নিয়ে কাজ করতে বলেন। আর মাগুরা ল কলেজের প্রিন্সিপাল এ্যাডভোকেট বিধান কৃষ্ণ বিশ্বাসকে অশেষ ধন্যবাদ জানান অসংখ্য ছাত্র ও ছাত্রীকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করানো ও এ্যাডভোকেট তৈরির কারিগর বলেন।
মাগুরা ল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও এ্যাডভোকেট অজয় কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক ও এ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ, অধ্যাপক খান মশিউল আজম তাদের বক্তব্য বলেন, আমরা গর্বিত এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মন্ডল মাগুরা ল কলেজের ছাত্র ছিলো আর মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ল ইয়ার হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হয়েছেন এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।
ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের তালিকাভুক্ত এ্যাডভোকেট মোঃ মিজানুর রহমান মন্ডল বলেন, আমি যখন মাগুরা ল কলেজে ভর্তি হই আমার বড় ভাই এ্যাডভোকেট জাকির হোসেনের হাত ধরে। মাগুরা ল কলেজের শিক্ষক এ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ স্যার ও আইন পেশার গুরু এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ হাতেখড়ি আইন শিক্ষা দিয়েছেন। এখান থেকে পাশ করে অনেকে সিনিয়র বলে কোর্টে সম্বন্ধ করে এটা খুবই দুঃখ জনক স্যারকে স্যার বলে সম্বন্ধ করতে হবে। তিনি মাগুরা ল কলেজ প্রিন্সিপাল ও সহকারী অধ্যাপক শিক্ষকদের অশেষ ধন্যবাদ জানান। ল কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন আপনারা এলএলবি ডিগ্রি পাস করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারপতি ও এ্যার্টণী জেনারেল হতে পারবেন।
মাগুরা ল কলেজের অধ্যক্ষ (প্রিন্সিপাল) ও অনুষ্ঠানের সভাপতি এ্যাডভোকেট বিধান কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, আমাদের মহাগুরু এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ আজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। মাগুরা ল কলেজ ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ছিলো প্রথমে সবাই ভেবে ছিলো কলেজ থুবড়ে পড়বে এগুতো পারবে না। আপনারা জেনে খুশি হবেন বর্তমানে মাগুরা জেলা বারে আমার মাগুরা ল কলেজ থেকে উত্তীর্ণ হয়ে যোগদান করেছেন তার সংখ্যা ৫৫ জন আর রিভিউ তে ২ জন আছেন মানে মোট ৫৭ আইনজীবী এছাড়াও বেশ কিছু লার্নার আইনজীবী আছে তারাও একসময় সামনের দিনে বার কাউন্সিল পাশ করে আসবে মাগুরা জেলা বারে। প্রথম ব্যক্তি মাগুরা বার অতিক্রম করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে তালিকাভুক্তি হলেন আমার প্রিয় ছাত্র এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মন্ডল। আর তুমি মাগুরা ল কলেজ থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ মহামান্য হাইকোর্টে বিভাগ গিয়েছো আর শিক্ষক মন্ডলীদের তার জায়গা ঠিক রেখে শিক্ষকরা তার জায়গা পায় এটা তার কাছে দাবি করেন। আরেকটা দাবি করেন মহানব্রত নিয়ে আইন পেশায় এসে ছিলাম আর মানুষ যেন সেবা পায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ও শেষে মাগুরা ল কলেজের অধ্যক্ষ এ্যাডভোকেট বিধান কৃষ্ণ বিশ্বাস তার মাগুরা ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করা তার ছাত্র, লার্নার আইনজীবী ও মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং বড় মাপের সাংবাদিক হিসেবে সাংবাদিক ফারুক আহমেদ কে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।