অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
বিপুল চন্দ জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ১১ বছর পরে এক কিশোরীকে অপহরণ করার দায়ে ধর্ষণের ফরহাদ হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপহরণের অভিযোগে তাকে আরও ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলেও উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি প্রশান্ত কুমার মণ্ডল (৩৬)-কে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ফরহাদ হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা গ্রামের আশরাফ হোসেনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে ভুক্তভোগী ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তার বাবার জন্য খাবার নিয়ে দোকানে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর তার বাবা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় ফরহাদ হোসেন ও প্রশান্ত কুমার মণ্ডলকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করে ভাঙ্গা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৌমেন মৈত্র ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার প্রায় ১১ বছর পর আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভুইয়া রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।