বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপের প্রভাবে ঝালকাঠিতে টানা বৃষ্টি, জনজীবন বিপর্যস্ত
জলাবদ্ধতায় সড়ক ত লিয়ে যোগাযোগে বিঘ্ন; কর্মহীন দিনমজুর, ফসলের ক্ষতির শঙ্কায় কৃষক
শংকর দাস পবন, স্টাফ রিপোর্টার
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠিতে টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সোমবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বয়ে যায়। টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
অবিরাম বর্ষণে জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ফলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
টানা বৃষ্টির কারণে জেলার নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বিভিন্ন ফেরিঘাটে নৌযান-সংশ্লিষ্টরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ভারী বর্ষণে কৃষিজমিতে পানি জমে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের আমন ধানের বীজতলা ও বিভিন্ন সবজি খেত নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। অধিকাংশ নির্মাণকাজ এবং খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত শ্রমনির্ভর কাজ বন্ধ থাকায় তাদের আয়ের পথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
একজন দিনমজুর বলেন, “আজ তিন দিন ধরে বৃষ্টির কারণে কোনো কাজ করতে পারিনি। কাজ না থাকায় সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আবার কাজে ফিরতে পারব।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার পাশাপাশি নদ-নদীর পানির উচ্চতাও বৃদ্ধি পেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে কৃষক, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।