নিকলী থানার হাজতে পরোয়ানাভুক্ত আসামির মৃত্যু, আত্মহত্যার প্রাথমিক ধারণা পুলিশের
মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল
ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার হাজতখানায় পরোয়ানাভুক্ত এক আসামির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, হাজতের ভেতরে নিজের পরিহিত শার্ট ব্যবহার করে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয় এবং আইনানুগ তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিকলী থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নং-৩৫৮, তারিখ ৯ জুলাই ২০২৬-এর ভিত্তিতে নিকলী সিআর মামলা নং-৪০১(১)/২৬, ধারা ৩২৩/৩৮০/৫০৬(২) এবং কোর্ট প্রসেস নং-১৮১/২৬-এর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. রুবেল (২১), পিতা রাজা হাওলাদার, গ্রাম শহরমুল, থানা-নিকলী, জেলা-কিশোরগঞ্জকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এএসআই (নিঃ) মো. আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সকাল ৯টা ২০ মিনিটে রুবেলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তাকে থানার হাজতে রাখা হয়। এ সময় প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তার দেহ তল্লাশি করা হয়। তিনি তখন কালো রঙের ফুলহাতা শার্ট ও কালো রঙের প্যান্ট পরিহিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, সকাল ১১টা ১০ মিনিটে রুবেলের বাবা হাজতে এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর সকাল ১১টা ১৪ মিনিটে সিডিএমএসে গ্রেফতারের তথ্য সংরক্ষণের জন্য কম্পিউটার অপারেটর হাজতে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ছবি তোলেন। আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি শেষে স্কট পার্টির কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হাজত থেকে রুবেলকে বের করতে গেলে দেখতে পান, তিনি নিজের পরিহিত শার্ট খুলে হাজতের লোহার গ্রিলের সঙ্গে পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নামিয়ে সাড়া-শব্দ পরীক্ষা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে থানার অফিসার ইনচার্জ এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জানানো হয়।
দায়িত্বরত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সকাল ১১টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপমৃত্যুর মামলা রুজুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত পরীক্ষা এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।