মিঠামইনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা বিএনপি নেতা জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে, রক্তাক্ত হামলায় আহত আরও একজন
মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল
ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে চাঞ্চল্যকর হামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি (পদ স্থগিত) জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে ও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১৫ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে সংঘটিত এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আহত হয়েছেন তার সহকর্মী হাদিস মিয়াও। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে সহকর্মী হাদিস মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে মিঠামইন বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। বাসার সামনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা তিন থেকে চারজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ফেলে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর এলোপাতাড়ি কোপ ও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলাকারীদের আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও তারা সেখানেই থেমে থাকেনি। গুরুতর জখম নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা।
এ সময় জাহেদুল আলমকে রক্ষার চেষ্টা করলে তার সহকর্মী হাদিস মিয়ার ওপরও হামলা চালানো হয়। তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে জাহেদুল আলমের অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর মুহূর্তেই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিঠামইন থানা পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থল ঘিরে আলামত সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া শুরু করে তদন্তকারী দল।
স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। একই সঙ্গে হামলায় অংশ নেওয়া অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আব্দুল আউয়াল বলেন, “এটি পূর্বপরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”
জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে মিঠামইনের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।