কোচিং শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার স্কুলছাত্র, ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন
মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল
স্টাফ রিপোর্টার,
কিশোরগঞ্জ শহরে কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় সালমান সানি (১৬) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত সালমান সানি সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের সল্প যশোদল নোয়াপাড়া গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে। তিনি কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং শহরের একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো কোচিং ক্লাস শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন সানি। পথিমধ্যে রেলক্রসিং এলাকায় কয়েকজন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় সানিকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আহত শিক্ষার্থীর বাবা কামরুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে নিয়মিত কোচিং করে বাড়ি ফিরছিল। তার ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের কিছু এলাকায় সন্ধ্যার পর ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত পুলিশি টহল এবং নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, “ঘটনার বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”