1. shahinsalman99@gmail.com : Dhakar somoy : Dhakar somoy
  2. bditwork247@gmail.com : admin : Badhon Sarkar
  3. thedhakarsomoy@gmail.com : thedhakarsomoy :
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন

তেহরানের আকাশে রুশ ছায়া- কেন শেষ মুহূর্তে থমকে গেল ট্রাম্পের ‘অপারেশন ইরান’?

প্রধান বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক- জাহারুল ইসলাম জীবন
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২ সময়

তেহরানের আকাশে রুশ ছায়া- কেন শেষ মুহূর্তে থমকে গেল ট্রাম্পের ‘অপারেশন ইরান’?

 

প্রধান বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক- জাহারুল ইসলাম জীবন এর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর বিশেষ নিউজ প্রতিবেদন।

 

তারিখ: ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬

ওয়াশিংটন বনাম তেহরান সপ্তাহজুড়ে টানটান উত্তজনা। পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরীর মহড়া এবং হোয়াইট হাউসের ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ হুশিয়ারি-সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কেবল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু গত বুধবার রাতে নাটকীয়ভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি এখনই যুদ্ধ চান না। ট্রাম্পের এই ‘শান্তিবাদী’ ইমেজের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক চাঞ্চল্যকর সামরিক গোয়েন্দা তথ্য।

রাশিয়ার সেই রহস্যময় কার্গো বিমান:- গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত সপ্তাহে রাশিয়ার মস্কো থেকে কয়েকটি বিশালকায় সামরিক কার্গো বিমান (সম্ভবত Ilyushin Il-76 বা An-124) তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই বিমানগুলো থেকে ভারী কন্টেইনার খালাস করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই কার্গোতে ছিল রাশিয়ার সর্বশেষ প্রযুক্তির S-400 ট্রায়াম্ফ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট সিস্টেমের উন্নত সংস্করণ এবং Krasukha-4 এর মতো শক্তিশালী ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম।

সামরিক হিসাব-নিকাশ কেন উল্টে গেল?- প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার পিছু হঠার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করেছে:

** ১. অজেয় আকাশ প্রতিরক্ষা:- রাশিয়ার সরবরাহ করা নতুন রাডার এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইরানের আকাশসীমাকে কার্যত একটি ‘লৌহবর্ম’-এ পরিণত করেছে। মার্কিন স্টিলথ ফাইটার বা ড্রোন হামলার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় পেন্টাগন পুনরায় চিন্তা করতে বাধ্য হয়েছে।

** ২. ইলেকট্রনিক জ্যামিং:- রাশিয়ার অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জামগুলো মার্কিন জিপিএস এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে সক্ষম। এর ফলে হামলার শুরুতে যে নিখুঁত লক্ষ্যভেদের প্রয়োজন হয়, তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

** ৩. আঞ্চলিক তেলের বাজার:- সৌদি আরব, কাতার ও ওমান স্পষ্টভাবে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে যে, ইরানে হামলা হলে জ্বালানি তেলের বাজারে যে ধস নামবে, তার দায়ভার আমেরিকার অর্থনীতিকেও বইতে হবে।

ট্রাম্পের কৌশল কি ‘শান্তি’ নাকি পিছুটান?- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনসমক্ষে বলছেন, “আমি ইরানিদের হত্যা করতে চাই না, আমি শান্তি চাই।” কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে একটি কৌশলগত পশ্চাদপসরণ। ট্রাম্প প্রশাসনের ভয় ছিল, সরাসরি সংঘাতে গেলে রাশিয়া ও চীন ইরানের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে পারে, যা একটি বৈশ্বিক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও ভূরাজনীতি:- বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ এড়ানো গেলেও ছায়াযুদ্ধ (Proxy War) এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে। ইরান রাশিয়ার সহায়তায় নিজেদের সামরিক শক্তি আরও সংহত করছে, আর ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প পথে (যেমন: ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি) তেহরানকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে।

শেষ প্রর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই দাবা খেলায় রাশিয়ার ‘গোপন কার্গো বিমান’ একটি শক্তিশালী ‘চাল’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ওয়াশিংটন বুঝতে পেরেছে যে, ২০২৬ সালের ইরান আগের মতো একা নয়। মস্কোর সরাসরি সামরিক সহায়তা তেহরানের আত্মবিশ্বাসকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যেখানে আমেরিকার মতো পরাশক্তিকেও হামলার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে হয়েছে অবশেষে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 TV Site
Design By BDit.com.bd