
কিশোরগঞ্জ শহরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু, যানজট নিরসনে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ
মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল
ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
কিশোরগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখা এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিসরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার সকাল ১১টায় শহরের অন্যতম ব্যস্ততম বটতলা মোড় এলাকা থেকে এ অভিযান শুরু হয়। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন এবং পৌরসভার সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফুটপাত ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযান শুরুর পর বটতলা মোড়, আখড়াবাজার, একরামপুর, গৌরাঙ্গবাজারসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা, সড়কের ওপর মালামাল রেখে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং যানজটের কারণ হয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশের অবৈধ দোকানপাট, অস্থায়ী নির্মাণকাজ এবং যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা বিভিন্ন সামগ্রী অপসারণ করা হয়।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, কিশোরগঞ্জ শহরের জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও সড়ক ও ফুটপাতের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে ছিল। ফলে প্রতিদিনই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিত। এসব সমস্যা সমাধান এবং শহরের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ও ডিডিএলজি জেবুন নাহার শাম্মী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল হক, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম নিশাদ, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজীবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং জনস্বার্থে পরিচালিত এ ধরনের কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখল না করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ যেন পুনরায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করতে না পারে সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়।
অভিযানকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন বয়সী মানুষ অভিযান প্রত্যক্ষ করতে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও অনিয়ন্ত্রিত দোকানপাটের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শহরে যানজট অনেকাংশে কমবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও হ্রাস পাবে।
এ সময় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে অভিযান পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ সংগ্রহ করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা মনে করেন, শহরকে পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। সরকারি জায়গা দখল, ফুটপাত অবরোধ বা যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।
সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের ধারাবাহিক তদারকি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে কিশোরগঞ্জ শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও যানজটমুক্ত নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, চলমান এ অভিযান অব্যাহত থাকলে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে, যানজট কমবে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে।
Leave a Reply