
পহেলা বৈশাখে উৎসবের রঙে রাঙা কিশোরগঞ্জ
মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল
ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে ঘিরে কিশোরগঞ্জ জেলায় দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ আয়োজন ও সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে নববর্ষের আনন্দ।
মঙ্গলবার সকালে পুরাতন স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে বৈশাখের সূচনা হয় আনন্দঘন পরিবেশে। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপরই শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত বৈশাখী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় অংশ নেয় সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রঙিন মুখোশ, বৈশাখী সাজ, ব্যানার-ফেস্টুন, ঢাক-ঢোল আর লোকজ বাদ্যের তালে তালে শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পুরো শহরজুড়ে তৈরি হয় এক আনন্দমুখর পরিবেশ।
শোভাযাত্রা শেষে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে শুরু হয় দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি ও নাট্যাংশে ফুটে ওঠে বাঙালির ঐতিহ্য, ইতিহাস, গ্রামীণ জীবনধারা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্র। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। বৈশাখী মেলা ও পিঠা-পুলির দোকান ঘিরে দর্শনার্থীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান,জেলা যুবদলের সভাপতি জিএস শরিফ সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তারা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি লালন করার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী আয়োজন ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপর উপস্থিতিতে উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ আনন্দ-উৎসবে অংশ নেয়, ঘুরে বেড়ায় বিভিন্ন স্থানে, উপভোগ করে নতুন বছরের প্রথম দিন।
সব মিলিয়ে বর্ণিল আয়োজন, লোকজ সংস্কৃতির প্রদর্শন এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কিশোরগঞ্জে পহেলা বৈশাখ উদযাপন হয়ে ওঠে আনন্দ, সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের এক মিলনমেলা। নতুন বছরের প্রথম দিনটি নতুন আশা ও স্বপ্ন নিয়ে উদযাপন করেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
Leave a Reply